অজ্ঞান করে স্বর্ণালংকার লুট, পরে গৃহবধূর মৃত্যু: ২২ দিনের মাথায় রহস্য উদঘাটন, নারীসহ দুইজন গ্রেপ্তার মমিনুল ইসলাম মুন নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. শহিদুল আলমের স্ত্রী মোছা. ফাতেমা খাতুন (৬৫)কে অজ্ঞান করে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটের পর মৃত্যুর ঘটনায় ২২ দিনের মাথায় রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হাসিনা বেগম এবং লুট করা স্বর্ণালংকার কেনার অভিযোগে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২৩ জুন দুপুরে শহরের চুড়িপট্টি এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারী কৌশলে ফাতেমা খাতুনকে রিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে জুসের সঙ্গে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতালে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ জুন সকালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নওগাঁ সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তদন্তকারী দল শহরের ৮০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডেটা বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্য যাচাই-বাছাই করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে স্থানীয় জনগণের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৫ জুলাই নওহাটা এলাকা থেকে সন্দেহভাজন হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ড ও লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন হাসিনা বেগম বাড়ি ভাড়া নেওয়ার কথা বলে অধ্যাপক শহিদুল আলম ও তার স্ত্রীর সঙ্গে পরিচিত হন। পরে ওষুধ কেনার অজুহাতে তাদের সঙ্গে শহরের চুড়িপট্টি এলাকায় যান। একপর্যায়ে অধ্যাপক শহিদুল আলম মিষ্টি কিনতে গেলে হাসিনা বেগম কৌশলে ফাতেমা খাতুনকে একটি রিকশায় তুলে অন্যত্র নিয়ে যান। তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযুক্তের কোলে থাকা আড়াই থেকে তিন বছর বয়সী একটি শিশুকে তিনি মানুষের সন্দেহ এড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেন। রিকশায় ফাতেমা খাতুনকে জুসের সঙ্গে কয়েকটি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করানোর পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর তার শরীরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে অভিযুক্ত নওগাঁ শহরের ময়লাপট্টি এলাকায় নদীর পাড়ে একটি বেঞ্চে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, লুট করা স্বর্ণালংকার হাসিনা বেগম স্থানীয় জোয়ারদার জুয়েলার্সের ব্যবসায়ী ইমরানের কাছে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। পরে পুলিশ ইমরানকে গ্রেপ্তার করলে তিনি হাসিনার কাছ থেকে স্বর্ণালংকার কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হাসিনা বেগম একই কৌশলে শিশুকে সঙ্গে নিয়ে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে নওগাঁ শহর ও আশপাশের এলাকায় আরও কয়েকজন নারীর স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করেছেন বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ চক্রের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করেছে। নওগাঁ শহরে অজ্ঞান পার্টিসহ যেকোনো ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ কঠোরভাবে দমন করা হবে। এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। Post navigation ভাঙ্গুড়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে দেয়াল টপকে পালালেন সাজাপ্রাপ্ত নারী বন্দি, ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত