তানোরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে জমির বায়নানামায় প্রতারণার অভিযোগ তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরে এক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি মুকুল হোসেনের বিরুদ্ধে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে ভুল বুঝিয়ে জমির বায়নানামায় স্বাক্ষর নেওয়া এবং টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে রিতেন মাহাতো বাদী হয়ে ইউপি সদস্য মুকুল হোসেন ও আকাশ মাহাতো নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের একান্নপুর গোয়ালপাড়া মৌজায় আরএস খতিয়ান নম্বর ৯০-এর আওতায় ৩ একর ৭৯ শতক জমি রয়েছে ভূদেব চন্দ্র মাহাতোর নামে। অভিযোগকারীর দাবি, ভূদেব চন্দ্র মাহাতো মানসিকভাবে অসুস্থ। তাঁর জমির নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে ইউপি সদস্য মুকুল হোসেন ও আকাশ মাহাতো বিভিন্নভাবে তাঁকে প্রলোভিত করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ওয়ারিশন সনদে স্বাক্ষর নেওয়ার কথা বলে গত ৩ সেপ্টেম্বর ভূদেব চন্দ্র মাহাতোর কাছ থেকে একটি বায়নানামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ওই সময় তাঁর ছেলে রিতেন মাহাতো, বাবা ও মাকে নিয়ে বাধাইড় ইউনিয়ন পরিষদে গেলে আকাশ মাহাতো তাঁদের ভুল বুঝিয়ে অন্যত্র নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, বায়নানামায় ৩ একর ৭৯ শতক জমি ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বায়নানামায় ১০ লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে বাস্তবে তাঁদের কোনো টাকা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন রিতেন মাহাতো। তাঁর অভিযোগ, তাঁর মানসিক ভারসাম্যহীন বাবাকে ভুল বুঝিয়ে ওই কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) তানোর থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, মুকুল হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও একই ধরনেরভাবে জমি সংক্রান্ত লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য মুকুল হোসেন। তিনি বলেন, তাঁর নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে আকাশ মাহাতো একটি বায়নানামার স্ট্যাম্প করেছিলেন। বিষয়টি তিনি জানতেন না দাবি করে মুকুল বলেন, ওই স্ট্যাম্প তিনি ছিঁড়ে ফেলেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অন্যদিকে আকাশ মাহাতো বলেন, মুকুল মেম্বারের কথাতেই তিনি বায়নানামার স্ট্যাম্প করেছিলেন। পরে মুকুল সেটি ছিঁড়ে ফেলেছেন এবং এখন বিষয়টি অস্বীকার করছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে তানোর থানার এএসআই লাভলু মিয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, জমির মালিকানা, বায়নানামা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মানসিক সক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। Post navigation তালন্দ ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেন সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম ;| জনসম্পৃক্ততা ও স্থানীয় সমস্যা সমাধানে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়