মমিনুল ইসলাম মুন, স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোর উপজেলায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে মারধরের ফলে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। মামলা দায়েরের পরও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করায় তারা আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন এবং ভুক্তভোগীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার বাদী উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের তানিয়া খাতুন (২৪)। থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধভাবে তার পথরোধ করে। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা লাঠি, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তানোর এ সেই মারামারি দৃশ্য এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা তানিয়া খাতুনকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার বাবা দুরুল হুদাকেও মারধর করা হয়। লাঠি ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা এবং গলা চেপে ধরে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, হামলাকারীরা দুরুল হুদার পকেটে থাকা ধান বিক্রির নগদ ২০ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি তানিয়া খাতুনের গলায় থাকা প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইনও নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, হামলার একপর্যায়ে তানিয়া খাতুনের তলপেটে লাথি মারা হয়। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরিবারের দাবি, ওই হামলার ফলেই তার গর্ভের চার মাসের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি বাড়ি ফেরেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং চিকিৎসাধীন থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে মামলা করতে না পারলেও পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে তানিয়া খাতুন তানোর থানায় মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মামলার পরপরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে তারা সহজে জামিনের সুযোগ পেত না। বর্তমানে জামিনে মুক্ত হয়ে অভিযুক্তরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং পুনরায় হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে তারা দাবি করেছেন। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর হামলা এবং তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুতর বিষয়। এমন অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। এদিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তানোর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। Post navigation তানোরে শিশুধর্ষণ মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতার ভাতিজা কারাগারে পোরশায় পৃথক দুই অভিযানে ৫.৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার, দুই মাদক