১৪ দিন ধরে পানিশূন্য সাদিপুর: মোটর বিকল, বিকল্প ব্যবস্থাও নেই, চরম দুর্ভোগে শতাধিক পরিবার| ফাইল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি মমিনুল ইসলাম মুন, নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাদিপুর গ্রামে টানা ১৪ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে পৌরসভার সুপেয় পানি সরবরাহ। পানি সরবরাহের মোটর বিকল হওয়ার পর সেটি দ্রুত মেরামত কিংবা বিকল্প উৎস থেকে পানি সরবরাহের কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শতাধিক পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ। খাবার পানি সংগ্রহ থেকে শুরু করে রান্নাবান্না, গোসল, অজু, কাপড় ধোয়া ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক এই নাগরিক সেবা বন্ধ থাকায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চলতি জুলাই মাসের শুরুতে সাদিপুরে পানি সরবরাহের মোটরটি বিকল হয়ে যায়। পরে সেটি সাময়িকভাবে মেরামত করে কয়েক দিনের জন্য পানি সরবরাহ চালু করা হলেও পুনরায় মোটরটি নষ্ট হয়ে যায়। এরপর থেকে গত ১৪ দিন ধরে পুরো গ্রামে এক ফোঁটা পানিও সরবরাহ করা হয়নি। গ্রামবাসীরা জানান, সাদিপুরে পৌরসভার পানি সরবরাহের দুটি পৃথক লাইন রয়েছে। একটি সাদিপুর ডিপ টিউবওয়েল থেকে এবং অন্যটি সাইদুর রহমানের অফিসসংলগ্ন মোটরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। অতীতে একটি লাইন বন্ধ থাকলে অন্য লাইন দিয়ে পানি সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু এবার দীর্ঘ ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও বিকল্প লাইন ব্যবহার করে পানি সরবরাহ চালুর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—বিকল্প ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কেন তা ব্যবহার করা হলো না? সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সাদিপুর গ্রামে কোনো পুকুর বা বিকল্প পানির উৎস নেই। ফলে অনেক পরিবারকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে খাবার ও ব্যবহার্য পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। অনেক শিক্ষার্থীও প্রতিদিন পড়াশোনার পাশাপাশি পানি সংগ্রহে সময় ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। এ বিষয়ে মুন্ডুমালা পৌরসভায় যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পানি সরবরাহের মোটরটি বিকল হয়ে গেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ মোটরটি মেরামত হবে কিংবা বিকল্প উৎস থেকে পানি সরবরাহ চালু করা হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। এদিকে দীর্ঘদিন পানি সংকট চলতে থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই লিখছেন, নাগরিকদের কাছ থেকে নিয়মিত পানি বিল ও পৌরকর আদায় করা হলেও প্রয়োজনের সময় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দা কেয়া বলেন, “১৪ দিন ধরে পানির জন্য আমরা চরম কষ্টে আছি। ছোট ছোট শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের নিয়ে প্রতিদিন দূর থেকে পানি আনতে হচ্ছে। একটি গ্রামের মানুষকে এতদিন পানি ছাড়া রেখে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” অপর বাসিন্দা জেসমিন বলেন, “আমাদের গ্রামে কোনো পুকুরও নেই। তাই বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। আমরা চাই, কর্তৃপক্ষ দ্রুত অন্য লাইন থেকে অন্তত অস্থায়ীভাবে পানি সরবরাহ চালু করুক। মানুষের কষ্টটা যেন তারা বুঝতে চেষ্টা করেন।” এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি মোটর বিকল হওয়ার কারণে টানা ১৪ দিন ধরে একটি পুরো গ্রামকে পানিশূন্য অবস্থায় রাখা নাগরিক সেবার চরম ব্যর্থতার পরিচয় বহন করে। তাদের দাবি, জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস থেকে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল। বর্তমানে মুন্ডুমালা পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, নিরাপদ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই দ্রুত বিকল মোটরটি মেরামত অথবা বিকল্প লাইন থেকে পানি সরবরাহ চালুর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দীর্ঘদিন নিরাপদ পানির সংকট চলতে থাকলে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই মানবিক ও জনস্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সাদিপুরের বাসিন্দাদের একটাই দাবি—অজুহাত নয়, অবিলম্বে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। কারণ বিশুদ্ধ পানি কোনো দয়া নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার। Post navigation জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে নিয়মিত মদ্যপান ও নারী নিয়ে ফুর্তির অভিযোগ; যৌতুক-নির্যাতনের বিচার চান অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের স্ত্রী হারানো ৫০ মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দিল রাজশাহী জেলা পুলিশ