হিলি খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলি সরকারি খাদ্য গুদাম নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। একটি গোষ্ঠী অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে নানা অপপ্রচার শুরু করেছে। এটা খাদ্য বিভাগ ও কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপপ্রয়াস মাত্র।এসব ভিত্তিহীন ও মিথ্যাচার নিয়ে সচেতন মহলেও ক্ষোভের সুত্রপাত হয়েছে।

সম্প্রতি,হিলি সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ৪০ কেজি ওজনের ৭০ বস্তা সরকারি ধান পাওয়ার ট্রলারে করে বের করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খাদ্য বিভাগ। স্থানীয়রা বলছে,প্রকাশ্যে দিবালোকে সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে একসঙ্গে এতো বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য (ধান) চুরির কোনো সুযোগ নাই। এটা যারা বলছে, তারা উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার করছে। 

এদিকে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, ধানগুলো পথিমধ্যে আটক করা হলেও পরে কোনো তদন্ত ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়। 

হিলি সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ধানগুলো জেলার পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া এলাকার একটি মিলে গোপনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথে বোয়ালদাড় বাজারের  পাশে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় জনতা ধান বোঝাই ট্রলিটি আটক করে। এ সময় ট্রলির চালক ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তি সরকারি ধানের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। যা সত্য নয় মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমুলক।

সুত্র জানায়, নীতিমালা ও শর্ত পুরুন না হওয়ায় অনেক হাস্কিং চালকল ধান ছাঁটাইকরণের বরাদ্দ পায়নি।এছাড়াও নীতিমালা অনুযায়ী অটো চালকলকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলা আছে।কিন্ত্ত একশ্রেণির কতিপয় চালকল মালিক ধান ছাঁটাইয়ের বরাদ্দ না পেয়ে গুদাম ও কর্মকর্তাকে (ওসিএলএসডি) নিয়ে নানা অপপ্রচার শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, সরকারি খাদ্য গুদামে খাদ্যশস্য ধান-গম-চাল আনা নেয়া একটা স্বাভাবিক পক্রিয়া। জামানত বাবদ নগদ অর্থ জমা দিয়ে চালকল মালিকদের ধান ছাঁটাইয়ের জন্য চুক্তি করতে হয়।চুক্তিবদ্ধ হবার পর ধান ছাঁটাইয়ের আদেশ পেলে ১৫ দিনের মধ্যে বরাদ্দকৃত ধান গুদাম থেকে নিয়ে যাবার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে তিনি এক দিনেও নিতে পারেন আবার পনের দিনেও নিতে পারেন।ধান ছাঁটাইয়ের চুক্তিবদ্ধ মিলারগণ খাদ্য গুদামের রেজিস্ট্রারে সই-স্বাক্ষর করে গুদাম থেকে ধান নিয়ে যায়।এসব ধান নিয়ে যাবার সময় তাদের কাছে কোনো সরকারি কাগজ থাকে না। সারাদেশের সরকারি গুদামে এভাবেই ছাঁটাইয়ের ধান নিয়ে যাওয়া হয়। এদিনও হিলির এলএসডি খাদ্য গুদাম থেকে ধানগুলো ছাঁটাইয়ের জন্য একটি মিলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।কিন্ত্ত একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে চুরির অপপ্রচার ছড়িয়ে ধান বোঝাই ট্রলি আটকে দেন।

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (টিসিএফ) আতিকুর রহমান, বোয়ালদাড় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট অটো রাইস মিলের  দুই প্রতিনিধির উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই করে  ধান বোঝাই ট্রলি চালকলে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (টিসিএফ) আতিকুর রহমান বলেন, গুদাম থেকে ছাঁটাইয়ের জন্য বৈধভাবে ধানগুলো চালকলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো। কিন্ত্ত একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত ভাবে ধান বোঝাই ট্রলি আটক করেছিল।

এবিষয়ে হিলি সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি)সাজেদুর রহমান বলেন, চুক্তিবদ্ধ মিলারগণ ছাঁটাইয়ের জন্য ধান নেয়ার সময় গুদামের কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে ধান নেন। তিনি বলেন, ধানগুলো ছাঁটাইয়ের জন্য মিলে যাচ্ছিলো।’ তিনি আরও বলেন, ওই মিল মালিক ছাঁটাইয়ের জন্য আরো ধান পাবেন। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নাই।

এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসিফুড)  মনিরুল ইসলাম বলেন, ধান ছাঁটাইয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ মিলারগণ যেকোনো সময় ধান নিয়ে যেতে পারেন।#

By চাঁদ২৪

মমিনুল ইসলাম মুন। সম্পাদক ও প্রকাশক। দেশবার্তা বিডি ২৪. কম। 📲 01740 93 58 70 বার্তাকক্ষ-01722 320196 Email : mominulinqilab@gmail.com deshbartabd86@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed