রেলওয়ের ডিজির বিরুদ্ধে অপপ্রচার 👨💼 আলিফ হোসেন,তানোরঃ বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেনের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং তাকে পদ থেকে সরাতে একজোট হয়ে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগে চাকরিচ্যুত সাবেক কতিপয় প্রকল্প পরিচালক এবং এডিজি আরএস পদ থেকে অপসারিত বিতর্কিত কতিপয় কর্মকর্তা বলে গুঞ্জন উঠেছে।তারা তাদের অতীত অপকর্ম, দুর্নীতি এবং দুদকের মামলার দায় আড়াল করতেই রেলের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃস্টির পাঁয়তারা ও নবনিযুক্ত ডিজিকে লক্ষ্য করে একের পর এক চক্রান্তের ফাঁদ পাতছে বলে রেল ভবনে আলোচনা রয়েছে। রেলওয়ের বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, সাবেক প্রজেক্ট ডিরেক্টর লাকসাম হতে আখাউড়া পর্যন্ত ডুয়াল গেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক এবং জিআইবিআর পদ থেকে বরখাস্ত কৃত রমজান আলী (৫৬) এবং তার স্ত্রী দিলরুবা পারভীন ইলোর (৫২) বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ পৃথক দুটি মামলা চলমান রয়েছে (মামলা নং ৫৭ ও ৫৪/২০২০)। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ দায়েরকৃত এজাহার অনুযায়ী, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৭(১) ধারা এবং ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে তাদের অভিযুক্ত করা হয়। অন্যদিকে, এই চক্রান্তের পেছনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে এডিজি আরএস (অতিরিক্ত মহাপরিচালক – রোলিং স্টক) পদ থেকে অপসারিত কতিপয় কর্মকর্তা বলেও আলোচনা রয়েছে। ১২৫টি লাগেজ ভ্যান ক্রয়ে অবাস্তব ও বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করে সরকারি প্রায় ৩৫৭ কোটি (৩৫৮ কোটি) টাকা অপচয় ও আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা চাঞ্চল্যকর মামলার ১ নম্বর প্রধান আসামি তিনি। ক্ষমতার অপব্যবহার, মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের কারণে তার বিরুদ্ধেও মামলা বিচারাধীন। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সুত্র জানায়,তারা নিজেদের দুর্নীতির মামলায় শাস্তি এড়াতে এবং ব্যক্তিগত ফায়দা লুটতে বরখাস্তকৃত ও অপসারিত কর্মকর্তার একটি সিন্ডিকেট গঠন করে রেলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ঘোলাটে করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।এই চক্রটি একশ্রেণীর গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়াচ্ছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দুদকের মামলার আসামি ও বিতর্কিত কর্মকর্তার একপেশে বক্তব্যকে হাতিয়ার বানিয়ে ডিজির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করানো হয় বলে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ মনে করছেন। এদিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং রেলওয়ের অভ্যন্তরে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেন বলেন, “রেলওয়েতে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা ব্যাহত করতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছ। যারা নিজেরা দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের দায়ে চাকরি হারিয়েছেন এবং দুদকের মামলার আসামি, তারাই মূলত এই চক্রান্তের নেপথ্যে রয়েছে। মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন বা চক্রান্ত করে রেলের সংস্কার থামানো যাবে না; সত্যের জয় সবসময়ই হবে।” এবিষয়ে জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। রেলের যেসব কর্মকর্তা বা সাবেক কর্মকর্তা দুর্নীতি করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করেছেন যেমন লাগেজ ভ্যান ক্রয়ে কোটি কোটি টাকার অপচয় বা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছে তাদের বিরুদ্ধে দুদক ও আইনি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে। এদিকে রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, একটি চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট চক্র তাদের ব্যক্তিগত আক্রোশ ও দুর্নীতির দায় থেকে বাঁচার শেষ চেষ্টা হিসেবেই বর্তমান ডিজির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছে। অনতিবিলম্বে এ চক্রটির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আফজাল হোসেন। রেলের সঙ্গে যার নিবিড় সম্পর্ক কেবল একজন শীর্ষ কর্মকর্তার নয়, বরং দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময়ের পেশাগত পথচলার। জানা গেছে, ১৯৯৪ সালের ২৫ এপ্রিল বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। ১৩তম বিসিএসের রেলওয়ে প্রকৌশল ক্যাডারের এই কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ের প্রকৌশল দায়িত্ব থেকে ধাপে ধাপে রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত দায়িত্বে উঠে এসেছেন। তার কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প। তিনি এই বৃহৎ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এদিকে ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অর্থাৎ রেলের একজন প্রকৌশলী হিসেবে তার যে পথচলা শুরু হয়েছিল, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতায় সেটিই তাকে রেলওয়ের সর্বোচ্চ নির্বাহী দায়িত্বের জায়গায় নিয়ে এসেছে।বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, নিরাপদ ও সময়নিষ্ঠ ট্রেন পরিচালনা, অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, পণ্য পরিবহন বাড়ানো এবং রেলকে আরও কার্যকর ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। এসব লক্ষ্য সামনে রেখে সরকারের রেল উন্নয়ন পরিকল্পনায় মহাপরিচালক হিসেবে আফজাল হোসেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।# Post navigation পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন পুঠিয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে এসিল্যান্ড শিবু দাসের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট, কারাদণ্ড ২ জনের