রাজশাহীর গোধূলি মার্কেটে দখল-অনিয়ম: যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ীর কাছে আরডিএর পাওনা ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা,দখল ছাড়ার নির্দেশ

মোঃ সাজু আহমেদ, রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীর শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকার গোধূলি মার্কেটে বরাদ্দের অতিরিক্ত জায়গা দখল, অনুমোদন ছাড়া নকশা পরিবর্তন এবং দীর্ঘদিনের ভাড়া বকেয়ার অভিযোগে এক ব্যবসায়ী ও রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সাবেক এক নেতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)। সাত কার্যদিবসের মধ্যে বকেয়া ও ক্ষতিপূরণ পরিশোধের নির্দেশ। তাঁদের অবৈধভাবে ব্যবহৃত জায়গা ছেড়ে দেওয়া, বকেয়া ভাড়া ও ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ এবং কেন বরাদ্দ বাতিল করা হবে না—তা জানতে চেয়ে পৃথক নোটিশ দিয়েছে সংস্থাটি।

আরডিএর এস্টেট অফিসার বদরুজ্জামানের স্বাক্ষর করা পৃথক চিঠিতে এসব নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট। আইনি পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭-০৮ সালে শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় চারতলা গোধূলি মার্কেট নির্মাণ করা হয়। ২০০৮ সালে মার্কেটটির দোকান বরাদ্দ শুরু হয়। ভবনের দ্বিতীয় তলায় ছিল ১৫৭টি দোকান।

অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবসায়ী শফিকুল আউয়াল খান দ্বিতীয় তলায় ৪৬টি দোকানের ৫ হাজার ৬১২ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ নেন। পরে আরও ১ হাজার বর্গফুট জায়গা ভাড়া নেন তিনি। পাশাপাশি আরডিএর শতাধিক দোকানের ভাড়াটিয়ার কাছ থেকেও দোকান নেওয়ার পর সেগুলো ভেঙে একটি বড় ফার্নিচার শোরুম তৈরি করা হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্যাসেজ ও ক্যান্টিলিভারের জায়গাও ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

আরডিএর নোটিশে বলা হয়েছে, শফিকুল আউয়ালের বরাদ্দপ্রাপ্ত ৪৬টি দোকান ও দ্বিতীয় তলার বাণিজ্যিক স্পেস মিলিয়ে মোট ৬ হাজার ৬১২ বর্গফুট জায়গার বিপরীতে ২৬ লাখ ১৯ হাজার ২৫ টাকা ভাড়া বকেয়া রয়েছে। একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও তিনি নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করেননি।

এ ছাড়া অনুমোদন ছাড়া বরাদ্দের অতিরিক্ত ৫ হাজার ৭৬৯ বর্গফুট প্যাসেজ ও বারান্দা ব্যবহারের অভিযোগে ৬০ লাখ ৭ হাজার ৮৪২ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে আরডিএ।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, গোধূলি মার্কেটের চতুর্থ তলায় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও বরাদ্দপত্র ছাড়াই ৪ হাজার ৫২৪ বর্গফুট জায়গা আবাসিক হিসেবে এবং আরও ৪ হাজার ৫৯০ বর্গফুট জায়গা গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মোট ৯ হাজার ১১৪ বর্গফুট বাণিজ্যিক স্পেস এভাবে ব্যবহারের জন্য ৫০ লাখ ১২ হাজার ১৬৪ টাকা ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা দাবি করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে শফিকুল আউয়াল খানের কাছে আরডিএর বকেয়া ভাড়া ও ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩১ টাকা পাওনা রয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গোধূলি মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ১৫ থেকে ২৩ নম্বর পর্যন্ত নয়টি দোকানের ১ হাজার ৪৪০ বর্গফুট বাণিজ্যিক স্পেস বরাদ্দ নিয়েছিলেন রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সাবেক সভাপতি রমজান আলী। তাঁর কাছেও নির্ধারিত ভাড়া বাবদ ৫ লাখ ১১ হাজার ২৩০ টাকা বকেয়া রয়েছে বলে আরডিএ জানিয়েছে।

রমজান আলীর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, আরডিএর অনুমোদন, বরাদ্দপত্র ও চুক্তিপত্র ছাড়াই মার্কেটের তৃতীয় তলায় ১ হাজার ৭৭৪ বর্গফুট এবং চতুর্থ তলায় ১ হাজার ৭৭ বর্গফুট বাণিজ্যিক স্পেস দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন তিনি। এসব জায়গা অবৈধভাবে ব্যবহারের জন্য ক্ষতিপূরণ ও জরিমানা বাবদ ১৮ লাখ ৩১ হাজার ৪২১ টাকা দাবি করেছে আরডিএ।

বকেয়া ভাড়া ও ক্ষতিপূরণ মিলিয়ে রমজান আলীর কাছে সংস্থাটির মোট পাওনা ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৬৫১ টাকা।

নোটিশে উভয়কে অবৈধভাবে ব্যবহৃত জায়গা খালি করে আরডিএর দখলে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নোটিশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে বকেয়া ভাড়া ও ক্ষতিপূরণ পরিশোধ, অবৈধ ব্যবহার বন্ধ এবং কেন তাঁদের বরাদ্দ বাতিল করা হবে না—সে বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে বরাদ্দ ও চুক্তি বাতিল, অবৈধ দখলে থাকা স্পেস সিলগালা ও দখল গ্রহণ, বকেয়া ভাড়া ও ক্ষতিপূরণ আদায়সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট বলেন, কর্তৃপক্ষের জায়গা অবৈধভাবে ব্যবহার কিংবা চুক্তির শর্ত ভঙ্গের বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

By চাঁদ২৪

মমিনুল ইসলাম মুন। সম্পাদক ও প্রকাশক। দেশবার্তা বিডি ২৪. কম। 📲 01740 93 58 70 বার্তাকক্ষ-01722 320196 Email : mominulinqilab@gmail.com deshbartabd86@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *