তানোর-গোদাগাড়ীতে অপরাধ দমনে দৃশ্যমান পরিবর্তন;| এএসপি মীর্জা মো. আব্দুস সালামের নেতৃত্বে দুই থানার সমন্বিত অভিযানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি মমিনুল ইসলাম মুন নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজশাহীর সীমান্তবর্তী তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত গোদাগাড়ী সার্কেলে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং অপরাধ দমনে পুলিশের ধারাবাহিক তৎপরতা স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মীর্জা মো. আব্দুস সালামের নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও নিবিড় তদারকিতে তানোর ও গোদাগাড়ী থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এএসপি আব্দুস সালাম মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাস, চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধ দমনে তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর দিকনির্দেশনায় তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজ নিজ এলাকার পুলিশ সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্তী হওয়ায় এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও চোরাচালান একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন সময়ে মাদক উদ্ধার, ওয়ারেন্টভুক্ত ও বিভিন্ন মামলার আসামি গ্রেপ্তার এবং অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সার্কেল পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধুমাত্র অভিযান পরিচালনা নয়, অপরাধের মূল উৎস চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, শিক্ষক, ইমাম ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় সভার মাধ্যমে জনসম্পৃক্ত পুলিশিংকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত শোনা, আইনগত পরামর্শ প্রদান এবং হয়রানিমুক্ত পরিবেশে সেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন। তানোর ও গোদাগাড়ীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, আগের তুলনায় পুলিশের টহল বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অপরাধ দমনে দৃশ্যমান তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে মাদকবিরোধী অভিযান, ওয়ারেন্ট তামিল এবং নিয়মিত বিশেষ অভিযানের কারণে অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের মধ্যে এক ধরনের সতর্কতা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মীর্জা মো. আব্দুস সালাম বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। মাদক, সন্ত্রাস, চোরাচালান কিংবা যেকোনো ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর। পুলিশ জনগণের বন্ধু—এই বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করতে আমরা পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। জনগণের সহযোগিতা পেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে। তিনি আরও বলেন, তানোর ও গোদাগাড়ী থানা পুলিশের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। দলগত প্রচেষ্টা, তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং জনগণের সহযোগিতার কারণেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতেও অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পেশাদার নেতৃত্ব, ধারাবাহিক অভিযান এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের সমন্বয়ে গোদাগাড়ী সার্কেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা তৈরি হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও জনআস্থা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তাদের প্রত্যাশা। Post navigation রামেকের ৬২তম এমবিবিএস ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত;| মানবিকতা, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর তানোরে জামায়াতের গণমিছিল ও পথসভা, জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি জানান