ওসি এস এম মাসুদ পারভেজের নেতৃত্বে তানোর থানার ধারাবাহিক সফল অভিযান মমিনুল ইসলাম মুন, স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর তানোরে চুরি যাওয়া একটি তিন চাকার ইঞ্জিনচালিত ভুটভুটি উদ্ধার করে চোরচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে তানোর থানা পুলিশ। একই সঙ্গে পৃথক অভিযানে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আরও দুই আসামিকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের নির্দেশনা ও তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে এ সাফল্য অর্জিত হয়। পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের যোগীশো গ্রামের বাসিন্দা মো. ইয়াকুব আলী তার পিতা মো. আব্দুল করিমের মালিকানাধীন একটি তিন চাকার ইঞ্জিনচালিত ভুটভুটি চুরির ঘটনায় তানোর থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ৩ জুন রাতে বাড়ির উঠানে রাখা ভুটভুটিটি অজ্ঞাতনামা চোরচক্র চুরি করে নিয়ে যায়। পরদিন ভোরে বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি। মামলা দায়েরের পরপরই তানোর থানা পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল রাজশাহীর পবা উপজেলার দিঘীর পারিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলমগীর মাল (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেখানো মতে চুরি হওয়া আকাশি রঙের কাঠ ও লোহার সংমিশ্রণে তৈরি ভুটভুটিটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ভুটভুটির আনুমানিক মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর মাল পুলিশকে জানান, তিনি ভুটভুটিটি তানোর উপজেলার দুবইল গ্রামের জসিম আলীর কাছ থেকে ক্রয় করেছিলেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জসিম আলীকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে জসিম আলী চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তানোর থানা পুলিশ কতৃক গ্রেপ্তারকৃত ভুটভুটি চোর উপরে ও গ্রেফতারি পরোয়ানা আসামি নিচে। ছবি- দেশবার্তাবিডি২৪. তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সদস্য হিসেবে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আরও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে কাজ চলছে। এদিকে অপর এক অভিযানে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামিকে আটক করেছে তানোর থানা পুলিশ। আটকরা হলেন উপজেলার জিওল গ্রামের মৃত ঝাটুর ছেলে মো. খাইরুল ইসলাম (২৮) এবং গোল্লাপাড়া দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত নমির শাহের ছেলে মো. ফজর আলী (৬৪)। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় পুলিশ তাদের আটক করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে। স্থানীয়রা জানান, চুরি হওয়া ভুটভুটি দ্রুত উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের তৎপরতা প্রশংসনীয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং পুলিশের প্রতি আস্থা আরও বেড়েছে। এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে তানোর থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।” জানা গেছে, রাজশাহী জেলা পুলিশের পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং ওসি এস এম মাসুদ পারভেজের কৌশলগত নেতৃত্বে পরিচালিত এসব অভিযানে তানোর থানা পুলিশ সম্প্রতি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। পুলিশের এমন তৎপরতায় অপরাধ দমনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে নিরাপত্তাবোধও বৃদ্ধি পেয়েছে। Post navigation চট্টগ্রামে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক, হটস্পট ৯ ওয়ার্ড, হাসপাতালে শয্যা সংকট তানোরে শিশুধর্ষণ মামলায় সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতার ভাতিজা কারাগারে