গোদাগাড়ীতে দুই মাদক কারবারির সম্পদ ক্রোক, তদন্তে আরও ২০ জন

মমিনুল ইসলাম মুন নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী :

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মাদক কারবারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুই ব্যক্তির সম্পদ ক্রোকের আদেশ কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ২০ জন সন্দেহভাজন মাদক কারবারির সম্পদের অনুসন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বৈধ আয়ের উৎস ছাড়াই বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ডিএনসি সূত্র জানায়, গত বছরের শেষ দিক থেকে তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের অবৈধ সম্পদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শুরু হয়। তদন্তে বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের তথ্য মিললে আদালতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশে পর্যায়ক্রমে এসব সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেওয়া হচ্ছে।

ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি আদালতের আদেশে গোদাগাড়ীর সহড়াগাছি গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ ও তাঁর স্ত্রী সায়েরা বেগমের সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। ডিএনসির রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক আলী আসলাম হোসেন দায়ের করা মামলায় রাজশাহীর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত গত ৬ এপ্রিল এ আদেশ দেন।

🌎Visit to get the latest news
http://www.deshbartabd24.com

এ ছাড়া একই আদালত গত ২৩ মে শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে অভিযুক্ত তারেক হোসেনের ১৯৯ দশমিক ১১৭৫ শতাংশ জমি ক্রোকের নির্দেশ দেন। গত বছরের ২২ এপ্রিল তাঁর গরুর খামারে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় কেজি হেরোইনসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ ঘটনায় ডিএনসির জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন।

গোদাগাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম বলেন, আদালতের ক্রোকাদেশপ্রাপ্ত কোনো সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর বা অন্য কোনোভাবে মালিকানা পরিবর্তন করা যাবে না। আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

ডিএনসির জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে গোদাগাড়ীর আরও ২০ জন সন্দেহভাজন মাদক কারবারির সম্পদের অনুসন্ধান চলছে। তদন্তে ভূমি, ব্যাংক, কর, নিবন্ধনসহ ২০ থেকে ২২টি সরকারি দপ্তরের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, গোদাগাড়ী পৌরসভার সাগরপাড়া এলাকার আবুল কালাম আজাদ, মাদারপুর এলাকার জাহাঙ্গীর আলম, মহিশালবাড়ীর শহিদুল ইসলাম (ভোদল), রেলগেট এলাকার নাসির উদ্দিন ওরফে নয়ন ডাক্তার, সেতাবুর রহমান বাবু এবং জসিমসহ কয়েকজনের অবৈধ সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ডিএনসির জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, ইতোমধ্যে দুজনের সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। আরও ২০ জনের সম্পদের অনুসন্ধান চলছে। যেসব ব্যক্তির বৈধ আয়ের উৎস নেই, অথচ উল্লেখযোগ্য সম্পদের মালিক হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, ডিএনসির তালিকায় গোদাগাড়ী উপজেলার ১৮৪ জন তালিকাভুক্ত মাদক কারবারির তথ্য রয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাঁদের প্রত্যেকের আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের উৎস তদন্তের আওতায় আনা হবে।

 

By moon24

মমিনুল ইসলাম মুন। সম্পাদক ও প্রকাশক। দেশবার্তা বিডি ২৪. কম। 📲 01740 93 58 70 Email : mominulinqilab@gmail.com deshbartabd86@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *