পুঠিয়ায় ফসলি জমির মাটি কাটায় এসিল্যান্ড শিবু দাসের অভিযান, দুজনের কারাদণ্ড

মমিনুল ইসলাম মুন নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজশাহী :

রাজশাহীর পুঠিয়ায় ফসলি জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও অবৈধভাবে টপসয়েল (উপরের মাটি) কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস। মোবাইল কোর্টের অভিযানে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে দুজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত তিনটি এক্সকাভেটর অকেজো করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে ফসলি জমির টপসয়েল কাটা প্রতিরোধে পরিচালিত অভিযানে আব্দুর রহিম (২৮) ও শাহাবুদ্দীন আহমেদকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের সাজা দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রহিম (২৮), পিতা আজাহার আলী, ঠিকানা টাঙ্গাইল—তাঁকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপর দণ্ডপ্রাপ্ত শাহাবুদ্দীন আহমেদ, পিতা শাহজাহান আলী, ঠিকানা রাতোয়াল, পুঠিয়া, রাজশাহী—তাঁকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে পরিবহনের সুযোগ না থাকায় ফসলি জমির টপসয়েল কাটার কাজে ব্যবহৃত তিনটি এক্সকাভেটর ঘটনাস্থলেই সম্পূর্ণ অকেজো করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছে। অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুত করা ২৫০ লিটারের বেশি ডিজেলও ধ্বংস করা হয়।

এদিকে, অভিযানে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় মোবাইল কোর্টে তাঁর বিচার করা সম্ভব হয়নি। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস বলেন, ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ার ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কৃষিজমি রক্ষা এবং অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রবণতা বন্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষিজমি রক্ষা, জমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ আইন অমান্য করে ফসলি জমির টপসয়েল কাটলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

By চাঁদ২৪

মমিনুল ইসলাম মুন। সম্পাদক ও প্রকাশক। দেশবার্তা বিডি ২৪. কম। 📲 01740 93 58 70 বার্তাকক্ষ-01722 320196 Email : mominulinqilab@gmail.com deshbartabd86@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *