সাংবাদিকতা: সত্য, সাহস ও আত্মত্যাগের এক মহৎ পেশা মমিনুল ইসলাম মুন : সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়; এটি সত্য অনুসন্ধান, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সমাজের কাছে বাস্তব চিত্র তুলে ধরার এক মহান দায়িত্ব। পৃথিবীর প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যম ছাড়া কোনো সমাজেই জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। আর সেই গণমাধ্যমকে সচল রাখার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন সাংবাদিকরা। আমরা সাধারণ মানুষ হিসেবে প্রতিদিন সংবাদপত্র পড়ি, অনলাইন নিউজ পোর্টালে খবর দেখি, টেলিভিশনের সংবাদ শুনি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন দেখি। কয়েক মিনিটের একটি সংবাদ আমাদের কাছে খুব সহজেই পৌঁছে যায়। কিন্তু সেই সংবাদটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পেছনে একজন সাংবাদিককে কতটা পরিশ্রম, ঝুঁকি, সময় ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়—তা অনেক সময় আমরা উপলব্ধিই করি না। একটি সংবাদ তৈরি হয় মাঠের বাস্তবতা থেকে। একজন সাংবাদিককে কখনো প্রচণ্ড রোদে, কখনো বৃষ্টিতে, কখনো গভীর রাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যেতে হয়। দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, সংঘর্ষ, অপরাধ, দুর্নীতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা কোনো মানুষের দুর্দশার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নিজের নিরাপত্তার কথাও ভুলে যেতে হয়। অনেক সময় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যেখানে একজন সাধারণ মানুষ নিরাপদ দূরত্বে সরে গেলেও সাংবাদিককে সেখানে দাঁড়িয়ে ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধান করতে হয়। সাংবাদিকের হাতে থাকে একটি কলম, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন কিংবা মোবাইল ফোন; কিন্তু তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা। তিনি কোনো ঘটনা দেখেন, তথ্য সংগ্রহ করেন, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেন, যাচাই-বাছাই করেন এবং তারপর মানুষের সামনে সত্য তুলে ধরেন। এই কাজের প্রতিটি ধাপেই থাকে দায়িত্বশীলতার পরীক্ষা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতা আরও কঠিন। এখানে একজন সাংবাদিককে শুধু সংবাদ সংগ্রহ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাকে অনেক সময় রাজনৈতিক চাপ, প্রভাবশালী মহলের চাপ, হুমকি, মামলা, সামাজিক চাপ এবং নানা ধরনের প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাজ করতে হয়। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিককে অপমান, হামলা, হয়রানি কিংবা আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কেউ কেউ প্রাণও হারিয়েছেন। তবুও অসংখ্য সাংবাদিক প্রতিদিন মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। একজন সাংবাদিক যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করেন, তখন তিনি শুধু একটি খবর প্রকাশ করেন না; তিনি সমাজের একটি অন্ধকার দিক মানুষের সামনে তুলে ধরেন। যখন কোনো অসহায় মানুষের কথা তুলে ধরেন, তখন সেই মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন। যখন কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করেন, তখন তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনার পথ তৈরি করেন। আর যখন কোনো ইতিবাচক কাজের সংবাদ প্রকাশ করেন, তখন সমাজের ভালো উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করেন। তাই সাংবাদিককে শুধু ‘খবরের মানুষ’ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক একই সঙ্গে মানুষের বন্ধু, সমাজের পর্যবেক্ষক এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহির অন্যতম মাধ্যম। তবে সাংবাদিকদের জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো—এই মহান দায়িত্বের বিপরীতে তাদের অনেকেই পান না যথাযথ সম্মান, নিরাপত্তা কিংবা আর্থিক নিশ্চয়তা। বিশেষ করে স্থানীয় ও মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের অবস্থা আরও কঠিন। অনেক সাংবাদিক অল্প সম্মানী কিংবা অনিশ্চিত আয়ের মধ্যে পরিবার চালান। দিনের পর দিন সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিজের পকেট থেকে যাতায়াত খরচ বহন করেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করেন, অথচ মাস শেষে সেই শ্রমের যথাযথ মূল্য অনেক সময় পান না। একজন সাংবাদিকেরও পরিবার আছে। তার সন্তান আছে, বাবা-মা আছে, স্বজন আছে। তারও স্বপ্ন আছে, প্রয়োজন আছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা আছে। কিন্তু সংবাদ সংগ্রহের সময় তিনি যখন ঝুঁকিপূর্ণ কোনো স্থানে ছুটে যান, তখন তার পরিবারের মানুষগুলো উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করেন—কখন তিনি নিরাপদে ফিরে আসবেন। এই বাস্তবতাকে আমাদের গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। সাংবাদিকদের মধ্যে ভুল বা অনিয়ম থাকতে পারে—এ কথা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। অন্য সব পেশার মতো সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও কিছু ব্যক্তি পেশাগত নীতি লঙ্ঘন করতে পারেন। কেউ পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারেন, কেউ ব্যক্তিস্বার্থে সাংবাদিকতার অপব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু কয়েকজনের অনিয়মের দায় পুরো সাংবাদিক সমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়। বরং সাংবাদিকতার দুর্বলতা দূর করার জন্য প্রয়োজন পেশাগত প্রশিক্ষণ, নৈতিকতার চর্চা, আর্থিক নিরাপত্তা, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ। একজন সাংবাদিককে যদি প্রতিদিন ভাবতে হয়—আজ সত্য কথা লিখলে চাকরি থাকবে কি না, মামলা হবে কি না, হামলার শিকার হতে হবে কি না, পরিবারের ওপর কোনো চাপ আসবে কি না—তাহলে তার কাছ থেকে শতভাগ স্বাধীন ও নির্ভীক সাংবাদিকতা আশা করা কঠিন। তাই সাংবাদিকদের স্বাধীনতা মানে কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা নয়। বরং এর অর্থ হলো—একজন সাংবাদিক যেন আইন মেনে, তথ্য যাচাই করে, নৈতিকতার সঙ্গে এবং কোনো ভয় বা অযাচিত চাপ ছাড়া সত্য প্রকাশ করতে পারেন। একই সঙ্গে ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ, অভিযোগের ন্যায়সংগত প্রতিকার এবং পেশাগত জবাবদিহির ব্যবস্থাও থাকতে হবে। আমরা চাই সাংবাদিকরা স্বাধীন হোন, কিন্তু একই সঙ্গে দায়িত্বশীলও হোন। আমরা চাই তারা সত্য প্রকাশ করুন, কিন্তু তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ না করুন। আমরা চাই তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, কিন্তু ব্যক্তিগত বিদ্বেষকে সংবাদে পরিণত না করেন। আমরা চাই তারা জনগণের কথা বলুন, কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অন্ধ সমর্থকে পরিণত না হন। একজন প্রকৃত সাংবাদিকের আনুগত্য কোনো ব্যক্তি, দল কিংবা ক্ষমতাবানের প্রতি নয়—তার আনুগত্য সত্য, জনগণ এবং পেশাগত নীতির প্রতি। সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হলে সেটিকে শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি মানুষের তথ্য জানার অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও আঘাত। তাই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি বা হয়রানির অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একইভাবে সাংবাদিকদের জন্য ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করাও জরুরি। একজন সাংবাদিককে যদি সম্মানজনক জীবনযাপনের মতো আয় দেওয়া যায়, তাহলে তাকে অনৈতিক প্রভাবের কাছে দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনাও কমে। আর্থিক নিরাপত্তা সাংবাদিকতার স্বাধীনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। বিশেষ করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। কারণ জাতীয় পর্যায়ের অনেক সংবাদই প্রথমে উঠে আসে স্থানীয় সাংবাদিকদের হাত ধরে। কোনো গ্রামের কৃষকের সমস্যা, কোনো বিদ্যালয়ের অনিয়ম, কোনো সড়কের দুরবস্থা, কোনো হাসপাতালের সংকট, কোনো মানুষের দুর্দশা কিংবা কোনো এলাকার উন্নয়নের খবর—এসব সংবাদ প্রথমে স্থানীয় সাংবাদিকরাই তুলে ধরেন। স্থানীয় সাংবাদিকরা অনেক সময় কোনো প্রতিষ্ঠানের বড় সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই কাজ করেন। একটি মোটরসাইকেল, একটি মোবাইল ফোন, একটি ক্যামেরা এবং নিজের সাহসকে পুঁজি করে তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে বেড়ান। তাদের পাঠানো একটি ছোট সংবাদ কখনো কখনো জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই সংবাদ তৈরির মানুষটির জীবনযাপন সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি? এই প্রশ্নটি আমাদের নিজেদের কাছেই করতে হবে। বর্তমান সরকার এবং ভবিষ্যতের সব সরকারের প্রতি সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে আমাদের প্রত্যাশা—সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাধীন ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। সাংবাদিকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা, ন্যায্য পারিশ্রমিক, কল্যাণমূলক ব্যবস্থা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে গণমাধ্যম মালিকদের প্রতিও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো প্রয়োজন। সাংবাদিকদের দিয়ে দায়িত্ব পালন করিয়ে তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক না দেওয়া, দীর্ঘ সময় কাজ করানো কিংবা কোনো নিরাপত্তা সুবিধা না দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সাংবাদিকতা যদি সত্যিই একটি পেশা হয়, তাহলে সাংবাদিকদেরও পেশাজীবী হিসেবে যথাযথ মর্যাদা ও অধিকার দিতে হবে। সাংবাদিক সমাজেরও নিজেদের দায়িত্ব ভুলে গেলে চলবে না। সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব সাংবাদিকদের নিজেদেরই সবচেয়ে বেশি। মিথ্যা সংবাদ, গুজব, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন, ব্যক্তিগত আক্রমণ, চাঁদাবাজি কিংবা কোনো পক্ষের হয়ে সংবাদকে ব্যবহার করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার বিশ্বাসযোগ্যতা। একবার সেই বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হলে তা ফিরে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। তাই সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র হওয়া উচিত—সত্য, নিরপেক্ষতা, দায়িত্বশীলতা এবং মানবিকতা। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে সাংবাদিক কোনো অন্যায়ের প্রতিবেদন করতে গিয়ে ভয় পাবেন না। কোনো দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। কোনো ক্ষমতাবানের ভুল তুলে ধরলে তাকে হয়রানির শিকার হতে হবে না। আবার সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলও করতে পারবেন না। কারণ স্বাধীন সাংবাদিকতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাও প্রয়োজন। একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী গণমাধ্যম অপরিহার্য। আর শক্তিশালী গণমাধ্যমের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ, স্বাধীন, দক্ষ এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছল সাংবাদিক সমাজ। সাংবাদিকরা আমাদের সমাজের বাইরের কেউ নন। তারা আমাদেরই ভাই, বোন, সন্তান, বন্ধু ও প্রতিবেশী। তারা প্রতিদিন আমাদের জন্য কাজ করেন। আমরা যখন ঘরে নিরাপদে বসে সংবাদ পড়ি, তখন হয়তো কোনো একজন সাংবাদিক মাঠে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। আমরা যখন কোনো ঘটনার সত্য জানতে পারি, তখন হয়তো তার পেছনে কোনো সাংবাদিক রাত জেগে তথ্য যাচাই করেছেন। আমরা যখন কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাই, তখন অনেক সময় তার পেছনেও থাকে কোনো সাংবাদিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। সুতরাং সাংবাদিকদের সম্মান করা মানে শুধু একজন সাংবাদিককে সম্মান করা নয়; এটি সত্যকে সম্মান করা, মানুষের জানার অধিকারকে সম্মান করা এবং গণতন্ত্রকে সম্মান করা। আসুন, আমরা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নয়—ভুল সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিই। সাংবাদিককে ভয় দেখানোর পরিবর্তে তথ্য দিয়ে জবাব দিই। সংবাদ বন্ধ করার পরিবর্তে সত্য প্রকাশের পরিবেশ তৈরি করি। সাংবাদিকের কলম থামিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে তার ভুল থাকলে আইনসম্মত ও ন্যায়সংগত পথে জবাবদিহি নিশ্চিত করি। আমাদের মনে রাখতে হবে—একটি স্বাধীন গণমাধ্যম দুর্বল হলে সমাজের সাধারণ মানুষের কণ্ঠও দুর্বল হয়ে যায়। আর সাংবাদিকরা যদি নিরাপদ, স্বাধীন ও সম্মানজনক পরিবেশে কাজ করতে পারেন, তাহলে তারা আরও সাহসের সঙ্গে সত্য তুলে ধরতে পারবেন। সাংবাদিকতা তাই শুধু জীবিকা নয়—এটি দায়িত্ব, এটি সাহস, এটি মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং অনেকের জন্য আত্মত্যাগের নাম। যারা প্রতিকূলতার মধ্যেও কলম হাতে মাঠে থাকেন, ক্যামেরা হাতে ছুটে বেড়ান, মানুষের কথা তুলে ধরেন এবং সত্য প্রকাশের চেষ্টা করেন—সেই সব সাংবাদিকের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান। সাংবাদিকরা শক্তিশালী হলে জনগণের কণ্ঠ শক্তিশালী হবে। গণমাধ্যম স্বাধীন হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। আর সত্য প্রকাশের পথ যতটা নিরাপদ হবে, বাংলাদেশ ততটাই এগিয়ে যাবে একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্রের দিকে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা চাই, স্বাধীনতা চাই, ন্যায্য অধিকার চাই—কারণ স্বাধীন সাংবাদিকতা শুধু সাংবাদিকদের অধিকার নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের জানার অধিকার। #### লেখক পরিচিতি সাংবাদিক, মমিনুল ইসলাম মুন সম্পাদক ও প্রকাশক দেশবার্তা বিডি২৪. কম, স্টাফ রিপোর্টার দৈনিক গণধবনি প্রতিদিন, সময়ের কথা ২৪, আলোকিত ৭১ সংবাদ।। Email : mominulinqilab@gmail.com. Post navigation রাজশাহী অনলাইন সাংবাদিক ফোরামের নতুন নেতৃত্ব, সভাপতি তোফায়েল সম্পাদক রনি সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন করায়:• আইনমন্ত্রীর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেন অ্যাডভোকেট মায়া আক্তার