সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন করায়:• আইনমন্ত্রীর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেন অ্যাডভোকেট মায়া আক্তার

👨‍💼মমিনুল ইসলাম মুন নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী :

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের মাধ্যমে দাতা ও গ্রহীতার অধিকার সুরক্ষায় নতুন বিধান যুক্ত করায় আইনমন্ত্রীর উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন অ্যাডভোকেট মায়া আক্তার। তাঁর মতে, সংশোধিত বিধানটি বর্তমান সমাজব্যবস্থার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিশেষ করে প্রবীণ বাবা-মায়ের সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে মানবিক ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

সম্প্রতি সংশোধিত Transfer of Property Act, 1882 (Act No. IV of 1882)-এ সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহীতার অধিকার এবং দখল সংরক্ষণের বিষয়ে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এ সংশোধনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মায়া আক্তার।

আইনের সংশোধিত বিধান নিয়ে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অ্যাডভোকেট মায়া আক্তার,

“দেশবার্তা বিডি২৪. কম” কে 

বলেন,মুসলিম আইনে পরিবর্তিত রূপে এ ধরনের ব্যবস্থা অনেক আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। একজন মুসলিম দাতা কোনো সম্পত্তি দান করার পরও নির্দিষ্ট শর্তে সেই সম্পত্তির লভ্যাংশ জীবনভর ভোগ করতে পারতেন কিংবা দানকৃত সম্পত্তি থেকে নিজের সারাজীবনের ভরণপোষণের ব্যবস্থা রাখতে পারতেন। তবে প্রচলিত মুসলিম আইনে দানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল ‘Delivery of possession’, অর্থাৎ দখল হস্তান্তর।

তিনি বলেন, “আগে দানের ক্ষেত্রে দখল হস্তান্তরের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু সংশোধিত আইনে এখন দাতা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সম্পত্তির দখল নিজের কাছে সংরক্ষণ করেও দান করতে পারবেন। বর্তমান বাস্তবতায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন।”

অ্যাডভোকেট মায়া আক্তারের মতে, সমাজে এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যেখানে সন্তানরা বাবা-মায়ের কাছ থেকে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর তাঁদের প্রতি দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাবা-মাকে মানসিক চাপ বা নানা ধরনের নির্যাতনের মাধ্যমে সম্পত্তি হেবা বা দান করে নিতে বাধ্য করার অভিযোগও দেখা যায়। আবার সম্পত্তি সন্তানদের নামে লিখে দেওয়ার পর অনেক বাবা-মা পরবর্তীতে তাঁদের প্রয়োজনীয় দেখভাল ও ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত হন।

তিনি বলেন, “বর্তমান সমাজব্যবস্থায় অনেক সন্তান রয়েছে, যারা বাবা-মাকে বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে বা নির্যাতন করে সম্পত্তি তাঁদের নামে হেবা বা দান করিয়ে নেয়। আবার সম্পত্তি দান করে দেওয়ার পর অনেক সময় বাবা-মায়ের আর কোনো খোঁজখবরও রাখে না। ফলে বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মাকে অসহায় অবস্থায় পড়তে হয়।”

তাঁর ভাষ্য, এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে দাতা যেন সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও নিজের জীবনযাপন, ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন—সেই সুযোগ সৃষ্টি করা হলে তা নিঃসন্দেহে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যাডভোকেট মায়া আক্তার আরও বলেন, “হয়তো এই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই আইনমন্ত্রী নতুন প্রভিশনটি নিয়ে এসেছেন। একজন ব্যক্তি তাঁর জীবদ্দশায় নিজের সম্পত্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন, কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের কারণে যেন পরবর্তী সময়ে তাঁকে অসহায় হয়ে পড়তে না হয়—আইনের এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসার দাবিদার।”

তিনি মনে করেন, সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে শুধু মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করলেই হবে না; এর সঙ্গে জড়িত দাতা ব্যক্তির জীবন, নিরাপত্তা, ভরণপোষণ এবং পারিবারিক বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল।

অ্যাডভোকেট মায়া আক্তার বলেন, “আইনের উদ্দেশ্য যদি হয় সম্পত্তির মালিকের অধিকার রক্ষা করা এবং একই সঙ্গে তাঁর জীবদ্দশায় নিরাপত্তা ও ভরণপোষণের নিশ্চয়তা তৈরি করা, তাহলে এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ দলিলপত্র, শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রকৃত ইচ্ছার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।”

আইনজীবীদের মতে, সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত আইন সংশোধনের ফলে ভবিষ্যতে দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে অধিকার ও দায়িত্বের বিষয়গুলো আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সম্পত্তি দানের পর দাতার দখল বা ভোগের অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি বাস্তব জীবনের পারিবারিক জটিলতা নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে।

সামাজিক বাস্তবতায় বাবা-মায়ের সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ, সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর তাঁদের অবহেলা এবং বার্ধক্যে ভরণপোষণের সংকট ক্রমেই আলোচনায় আসছে। এ অবস্থায় সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধনের মাধ্যমে দাতার অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অ্যাডভোকেট মায়া আক্তার।

তাঁর মতে, আইন শুধু সম্পত্তির মালিকানা নির্ধারণের বিষয় নয়; মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম মাধ্যম। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সাম্প্রতিক সংশোধনকে তিনি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অ্যাডভোকেট মায়া আক্তার বলেন, “আইনের এই পরিবর্তন যেন যথাযথভাবে প্রয়োগ হয় এবং কোনো পক্ষ যাতে এর অপব্যবহার করতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাবা-মায়ের সম্পত্তির প্রতি সন্তানের অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনি বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও মানবিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও সমাজে গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।”

সব মিলিয়ে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনকে দাতা ব্যক্তির অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অ্যাডভোকেট মায়া আক্তার। একই সঙ্গে তিনি এ উদ্যোগের জন্য আইনমন্ত্রীকে প্রশংসা করে বলেন, মানবিক বাস্তবতা বিবেচনায় আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে পরিবার ও সমাজে সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

By চাঁদ২৪

মমিনুল ইসলাম মুন। সম্পাদক ও প্রকাশক। দেশবার্তা বিডি ২৪. কম। 📲 01740 93 58 70 বার্তাকক্ষ-01722 320196 Email : mominulinqilab@gmail.com deshbartabd86@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *