হালুয়াঘাট ইউএনওকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ, পূর্বের কর্মস্থল গোদাগাড়ীর সুনামও আলোচনায় মমিনুল ইসলাম মুন নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ-এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে ইউএনওকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়নি। সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে ‘কাজ ছাড়াই ৬০ লাখ টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। সচেতন মহলের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি ঠিকাদার ও প্রকৌশল বিভাগও সম্পৃক্ত থাকে। প্রকৌশল বিভাগের প্রতিবেদন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিল পরিশোধের প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ফলে পুরো বিষয়টি তদন্তের আগে শুধুমাত্র ইউএনওকে দায়ী করে সংবাদ প্রকাশ করাকে অনেকেই একপাক্ষিক বলে মনে করছেন। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও ফয়সাল আহমেদ স্পষ্টভাবে তা অস্বীকার করেছেন। গত সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়েছে। মতবিনিময় সভায় হালুয়াঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি জুলফিকার আলী জানতে চান, টেন্ডার ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাড়া কীভাবে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জবাবে ইউএনও বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে। অর্থবছরের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাজ দৃশ্যমানভাবে শুরু না হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৩০ মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে হালুয়াঘাট উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংস্কারের জন্য মোট ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ ছিল ১০ লাখ টাকা। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ফয়সাল আহমেদ এর আগে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সততা, স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব প্রশাসনের জন্য ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন। তার বদলির খবর প্রকাশিত হলে দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তাকে ওই উপজেলায় বহাল রাখার দাবি জানিয়েছিলেন। স্থানীয়দের মতে, একজন কর্মকর্তা যিনি কর্মদক্ষতা ও জনসেবার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তের আগেই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন হবে না। এ বিষয়ে ইউএনও ফয়সাল আহমেদ বলেন, “প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে ঠিকাদার, প্রকৌশলীসহ একাধিক পক্ষ জড়িত। কিন্তু প্রকাশিত প্রতিবেদনে শুধু আমার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সবকিছুই স্পষ্ট হবে।” এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনিক মহল ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। Post navigation দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ক্ষোভ মহন গ্রামের একমাত্র সড়কের বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে ৩০০ পরিবারের মানুষ