সংবাদ প্রকাশের ৮–১০ ঘণ্টার মধ্যেই সাদিপুরে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক| ইউএনও বললেন, ‘নিউজটি দৃষ্টিগোচর হওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, স্থায়ী সমাধান বুধবার–বৃহস্পতিবারের মধ্যে’ মমিনুল ইসলাম মুন, নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাদিপুর গ্রামে টানা ১৪ দিন ধরে বন্ধ থাকা সুপেয় পানি সরবরাহ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। অনলাইন নিউজ পোর্টাল দেশবার্তা বিডি২৪.কম-এ সংবাদ প্রকাশের ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যেই বিকল মোটর মেরামত করে পুনরায় পানি সরবরাহ চালু করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে শতাধিক পরিবারের কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে। তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মুন্ডুমালা পৌরসভার প্রশাসক নাইমা খান বলেন, দেশবার্তা বিডি২৪.কম এ প্রকাশিত “সংবাদটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। দ্রুত মোটরটি মেরামত করে এলাকায় পানি সরবরাহ চালু করা হয়েছে। আগামী বুধবার বা বৃহস্পতিবারের মধ্যেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” এর আগে দীর্ঘ ১৪ দিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েন। রান্না, খাবার পানি সংগ্রহ, গোসল, অজু, কাপড় ধোয়াসহ দৈনন্দিন সব কাজই ব্যাহত হয়। গ্রামে কোনো পুকুর বা বিকল্প পানির উৎস না থাকায় অনেক পরিবারকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল, পানি সরবরাহের মোটর বিকল হওয়ার পর তা দ্রুত মেরামত কিংবা বিকল্প লাইন চালুর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ সাদিপুরে পৌরসভার দুটি পৃথক পানি সরবরাহ লাইন রয়েছে। অতীতে একটি লাইন বন্ধ থাকলে অন্যটি ব্যবহার করা হলেও এবার সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সংবাদ প্রকাশের পর এলাকাবাসী প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা স্থায়ী সমাধানেরও দাবি জানান। স্থানীয় বাসিন্দা কেয়া বলেন, “১৪ দিন ধরে আমরা পানির জন্য অসহনীয় কষ্ট করেছি। ছোট শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের নিয়ে দূর থেকে পানি আনতে হয়েছে। এখন পানি চালু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। আশা করছি, আর যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।” আরেক বাসিন্দা জেসমিন বলেন, “আমাদের গ্রামে বিকল্প পানির কোনো উৎস নেই। সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে, এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তবে স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আবারও একই দুর্ভোগ হতে পারে।” স্থানীয় শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, “পানির অভাবে পড়াশোনায়ও প্রভাব পড়েছে। স্কুল-কলেজ থেকে ফিরে বই নিয়ে বসার পরিবর্তে পানি সংগ্রহ করতে যেতে হয়েছে। এতে পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন পানি পাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছি।” এক অভিভাবক শাহিনা বেগম বলেন, “শিশুদের গোসল করানো, খাবার রান্না করা—সবকিছুই কঠিন হয়ে পড়েছিল। পানি না থাকায় পরিবারের সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।” এদিকে দীর্ঘদিনের পানি সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, নাগরিকদের কাছ থেকে নিয়মিত পানি বিল ও পৌরকর আদায় করা হলেও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে গাফিলতি করা হয়েছে। পরে সংবাদ প্রকাশ এবং জনমতের প্রতিক্রিয়ার পর প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন নিরাপদ পানির সংকট চললে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আপাতত পানি সরবরাহ চালু হলেও প্রশাসনের ঘোষণামতো দ্রুত স্থায়ী সমাধান বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে দিনের পর দিন নিরাপদ পানির সংকটে পড়তে না হয়। Post navigation তানোরে ২ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ আনোয়ারা চায়না ইকোনমিক জোনে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে : অর্থমন্ত্রী