যে পাপের বিচার স্রষ্টা মানুষের হাতে রেখেছেন: ইসলামে বান্দার হকের গুরুত্ব দেশবার্তা বিডি ২৪. কম,ধর্ম ডেস্ক: ইসলামে আল্লাহর হক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মানুষের অধিকার বা বান্দার হক (হাক্কুল ইবাদ) আদায়ের বিষয়টিও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামি শরিয়তের আলোকে মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করা এমন একটি গুরুতর অপরাধ, যার ক্ষমা আল্লাহ তাআলা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষমার ওপর নির্ভরশীল করেছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না।” (সুরা আন-নিসা: ২৯)। এ আয়াত মানুষের সম্পদ, সম্মান ও অধিকার রক্ষার প্রতি ইসলামের কঠোর নির্দেশনারই প্রতিফলন। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের মতো ইবাদত পালনের পাশাপাশি মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাও একজন মুমিনের অপরিহার্য দায়িত্ব। অথচ বাস্তব জীবনে ওজনে কম দেওয়া, খাদ্যে ভেজাল মেশানো, সুদের লেনদেন, পাওনা পরিশোধে গড়িমসি, উত্তরাধিকারের সম্পদ থেকে বোন, স্ত্রী বা কন্যাকে বঞ্চিত করা, গিবত, অপবাদ, প্রতারণা ও অন্যায়ভাবে মানুষের সম্মানহানি—এসবই বান্দার হক নষ্ট করার শামিল। এছাড়া সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলা, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি আটকে রাখা, জনসাধারণের চলাচলে অকারণে বিঘ্ন সৃষ্টি কিংবা জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করাও হাক্কুল ইবাদ লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কোরআনে এতিমের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগকারীদের সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই যারা এতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা নিজেদের পেটে আগুনই ভর্তি করছে এবং অচিরেই জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।” (সুরা আন-নিসা: ১০) রাসুলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে প্রকৃত দেউলিয়া ব্যক্তির পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, কিয়ামতের দিন এমন ব্যক্তি অনেক নামাজ, রোজা ও জাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে; কিন্তু সে দুনিয়ায় মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কাউকে গালি দিয়েছে, অপবাদ দিয়েছে, অন্যায়ভাবে রক্তপাত ঘটিয়েছে কিংবা কাউকে আঘাত করেছে। তখন তার নেক আমলগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। নেক আমল শেষ হয়ে গেলে ভুক্তভোগীদের গুনাহ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (সহিহ মুসলিম: ২৫৮১) ইসলামি শিক্ষার আলোকে তাই কেবল ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগী হওয়াই যথেষ্ট নয়; মানুষের অধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং কারও প্রাপ্য নষ্ট না করাও ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। আলেমরা বলেন, যদি কারও হক নষ্ট হয়ে থাকে, তবে বিলম্ব না করে তার কাছে ক্ষমা চাওয়া, পাওনা পরিশোধ করা এবং আন্তরিকভাবে সংশোধনের পথে ফিরে আসাই একজন মুসলমানের কর্তব্য। কারণ দুনিয়ার আদালতে অনেক কিছু এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও, আখিরাতের বিচারে মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করার কোনো অবকাশ থাকবে না। বান্দার হক রক্ষার মধ্য দিয়েই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়, শান্তি ও পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তাই একজন প্রকৃত মুসলমানের উচিত আল্লাহর হকের পাশাপাশি মানুষের হক আদায়েও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। Post navigation নামাজ: ইসলামের স্তম্ভ, আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও দুনিয়া-আখিরাতের সফলতার সর্বোত্তম পথ