বেলঘড়িয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৮ পরীক্ষার্থীর ১৭ জনই ফেল, উঠছে নানা প্রশ্ন

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার বেলঘড়িয়া দাখিল মাদ্রাসায় চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জনই অকৃতকার্য হয়েছে। তবে প্রকৃতপক্ষে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৭ জন। পরীক্ষার আগে বাল্যবিবাহ হওয়ায় একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৭ জনের মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে মাত্র একজন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১৬ জন। কৃতকার্য শিক্ষার্থী মোছা. ফাতেমা খাতুন জিপিএ ৩.২৫ পেয়েছেন। এমন ফলাফলে মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বেলঘড়িয়া দাখিল মাদ্রাসায় বর্তমানে প্রধান শিক্ষক মো. আফজাল হোসেন, সহকারী শিক্ষক মো. খাইরুল ইসলামসহ মোট ১৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত রয়েছেন।

কৃতকার্য শিক্ষার্থী মোছা. ফাতেমা খাতুন বলেন, পরীক্ষায় সবাই ভালো করার চেষ্টা করেছে। তবে এমসিকিউ অংশে অনেকের ফলাফল আশানুরূপ নাও হতে পারে। পড়াশোনার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের কোনো গাফিলতি ছিল না। শিক্ষকরা তাদের ভালোভাবে পড়িয়েছেন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

অকৃতকার্য শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসানও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। তিনি বলেন, শিক্ষকরা তাদের ভালোভাবেই পড়িয়েছেন ও সহযোগিতা করেছেন। তবে গণিত পরীক্ষায় তিনি নিজেই ভালো করতে পারেননি। এ কারণে ফলাফল খারাপ হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের তুলনায় মাদ্রাসাটির পড়াশোনার মান ও পরিবেশে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না হওয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত মাদ্রাসায় না যাওয়ায় পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন তারা।

এলাকাবাসীর কেউ কেউ মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারও পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি মেয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ একটি বড় বাধা। এবারের দাখিল পরীক্ষার তালিকায় থাকা ১৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষার আগেই বাল্যবিবাহের শিকার হওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এছাড়া পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪জন বিবাহিত মেয়ে শিক্ষার্থী ছিলেন। অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে গেলে অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

মাদ্রাসার শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পারিবারিক অসচ্ছলতা ও দারিদ্র্যের কারণে অনেক ক্ষেত্রে মেয়ে শিক্ষার্থীদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়। সীমান্তবর্তী এলাকার আর্থসামাজিক বাস্তবতাও এর সঙ্গে জড়িত বলে মনে করেন তারা। ফলে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে শুধু শিক্ষক বা শিক্ষার্থীদের এককভাবে দায়ী না করে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, অভিভাবকদের সচেতন করা, মোবাইল ফোনের অপব্যবহার কমানো এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বেলঘড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার ফলাফল খারাপ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ফলাফল ও সার্বিক পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

By চাঁদ২৪

মমিনুল ইসলাম মুন। সম্পাদক ও প্রকাশক। দেশবার্তা বিডি ২৪. কম। 📲 01740 93 58 70 বার্তাকক্ষ-01722 320196 Email : mominulinqilab@gmail.com deshbartabd86@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *