ফ্যামিলি কার্ড নিয়োগে নাইমা খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি নেই;| একাধিক দায়িত্ব সামলেও সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন তানোরের ইউএনও নাইমা খান মমিনুল ইসলাম মুন নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহীর তানোরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাইমা খানের বিরুদ্ধে পক্ষপাত ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ বা দলীয় বিবেচনায় প্রার্থী বাছাইয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্য থেকে ফলাফল ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেই সেই নিয়োগের দায় ইউএনওর ওপর বর্তায় না। একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একজন সরকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সরকারি বিধি-বিধান ও নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করাই তাঁর মূল কাজ। কোন প্রার্থী কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক—এটি যাচাই করে সরকারি কর্মসূচির জনবল নিয়োগ দেওয়া তাঁর দায়িত্বের অংশ নয়। পরীক্ষার ফলই ছিল মূল বিবেচনা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার ফলাফল ও নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিতদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ কারণে কোনো প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় সামনে এনে নিয়োগকে দলীয়করণ হিসেবে আখ্যায়িত করার আগে পরীক্ষার ফলাফল, মূল্যায়ন ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন—যদি কোনো প্রার্থী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অযোগ্য হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগই বা দেওয়া হলো কেন? পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পর ফলাফলের ভিত্তিতে নির্বাচিত হলে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ইউএনওকে দায়ী করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেটিও বিবেচনার বিষয়। একাধিক দায়িত্বে ব্যস্ত ইউএনও নাইমা খান তানোরে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে নাইমা খানকে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ শূন্য থাকায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব, এবং তানোর পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বও তাঁর ওপর রয়েছে। এর মধ্যেও উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গণশুনানি, ভূমি সেবা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সক্রিয় রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ‘সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা’—স্থানীয়দের মূল্যায়ন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েকজন নাগরিকের ভাষ্য, নাইমা খান তানোরে যোগদানের পর থেকে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে সক্রিয় রয়েছেন। নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া, সরকারি দপ্তর পরিদর্শন এবং মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকিতে তাঁর উপস্থিতি রয়েছে। একজন স্থানীয় নাগরিক বলেন, “কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু শুধু কোনো প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় আছে বলে ইউএনওকে দলীয়করণের সঙ্গে জড়ানো ঠিক নয়।” বাধাইড় ইউপির শিবরাম পুর গ্ৰামের মফিজ উদ্দীন, “নাইমা খান একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী নন। তাঁর দায়িত্ব সরকারি নিয়ম মেনে প্রশাসন পরিচালনা করা। একাধিক দায়িত্বের চাপের মধ্যেও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।” অভিযোগ থাকলে নথি দিয়ে যাচাইয়ের আহ্বান সচেতন মহলের মতে, ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে পরীক্ষার ফলাফল, নম্বরপত্র, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও নিয়োগসংক্রান্ত নথি যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি প্রমাণ না থাকলে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে অহেতুক বিতর্কে জড়ানোও অনুচিত। তাদের মতে, ইউএনও নাইমা খানের বিরুদ্ধে দলীয়করণ বা পক্ষপাতের অভিযোগের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে না আসায় তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করার সুযোগ সীমিত। প্রশাসনিক দায়িত্বে তৎপরতা একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব সামলেও নাইমা খান নিয়মিত প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে তাঁর তৎপরতা ইতিবাচক। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ফ্যামিলি কার্ডের বিতর্ককে রাজনৈতিক আলোচনার বাইরে রেখে নির্বাচিত তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করা হবে। একাধিক সচেতন নাগরিক বলছেন, ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগ নিয়ে আলোচনা থাকলেও পরীক্ষাভিত্তিক বাছাই প্রক্রিয়ায় ইউএনও নাইমা খানের ব্যক্তিগত দলীয় হস্তক্ষেপের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে আসেনি। ফলে প্রমাণ ছাড়া তাঁকে দলীয়করণ বা পক্ষপাতের জন্য দায়ী না করে নিয়োগের নথি ও পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে বিষয়টি মূল্যায়ন করাই হবে যৌক্তিক। Post navigation মোহনপুরে ফসলী জমিতে অবৈধ ইটভাটা ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত শিবরামপুর কালীমাতা মন্দির, দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষায় পরিচালনা কমিটি গঠন