ধামইরহাটে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর ধামইরহাটে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের নিয়ে সচেতনতা এবং করণীয় বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের উদ্যোগে সংস্থাটির সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের পক্ষ থেকে ধামইরহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত জরিপের তথ্য তুলে ধরা হয়। জরিপ অনুযায়ী, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমসহ বিভিন্ন কারণে মোট ২ হাজার ৩০০ শিশু ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ১৭৯ জন বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে এবং ১২১ জন শিশু শিশুশ্রমে যুক্ত ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের অন্তর্ভুক্ত। শিশুদের সুরক্ষা, শিক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ওয়ার্ল্ড ভিশন। এর মধ্যে শিশুদের জন্য মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা, সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি এবং শিশু সুরক্ষা ও অধিকার বিষয়ে নানা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের এপি ম্যানেজার লাবলু খান, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ডেভিড সাংমা, প্রোগ্রাম অফিসার মো. মামুনুল রশিদ, শিশু সুরক্ষা ও নিরাপত্তা অফিসার সারামিতা হালদার, এলভিনা হাসদা ও লিউনিডাস বৈদ্য সহ ওয়ার্ল্ড ভিশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। এ সময় ধামইরহাট উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। গণমাধ্যমকর্মীরা বলেন, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার কারণে ধামইরহাট উপজেলার অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বাল্যবিবাহের কারণে অনেক কিশোরী শিক্ষাজীবন থেকে ছিটকে যাচ্ছে। অন্যদিকে দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশু পড়াশোনার পাশাপাশি বা পড়াশোনা ছেড়ে বিভিন্ন কাজে যুক্ত হচ্ছে। এর প্রভাব ধামইরহাট উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও পড়ছে। এসব বিষয়ে কার্যকরভাবে নজর দেওয়া না হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার অগ্রগতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে। গণমাধ্যমকর্মীরা আরও বলেন, এসব সমস্যা মোকাবিলায় শুধু ওয়ার্ল্ড ভিশন বা কোনো বেসরকারি সংস্থার একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া এবং মাদকের মতো সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তারা বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এবং নিয়মিত তদারকি ছাড়া এসব সমস্যা স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের চিহ্নিত করে তাদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবারকে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সভায় বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম প্রতিরোধ, ঝরে পড়া শিশুদের পুনরায় শিক্ষার আওতায় আনা, শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং মাদকের বিস্তার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়। Post navigation নিয়ামতপুরে ৩০পিচ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ১ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার নিয়ামতপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল ও নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ