তানোর খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ, বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় প্রকৃত কৃষক নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহীর তানোর সরকারি খাদ্যগুদামে চলমান অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত কৃষকের পরিবর্তে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকের পরিচয়ে সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে সরকারের কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কৃষক নিজস্ব বস্তায় ধান নিয়ে খাদ্যগুদামে আসবেন। গুদাম কর্তৃপক্ষ মান যাচাইয়ের পর সরকারি বস্তায় ধান গ্রহণ করবে। তবে অভিযোগ রয়েছে, তানোর খাদ্যগুদামের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে টনপ্রতি আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে আগে থেকেই সরকারি বস্তা মিলার ও ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। পরে একই বস্তায় ধান গ্রহণ করা হচ্ছে, যা সরকারি বিধি-বিধানের পরিপন্থী বলে অভিযোগ। এছাড়া উপজেলার একটি বয়লার (চাতাল) মিলে বিপুল পরিমাণ ধান মজুদের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি মহলের সহযোগিতায় এসব ধান সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সরকারি খাদ্যগুদামে সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। ওই চাতালে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত সরকারি বস্তাও দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, নওগাঁ, পাবনা ও রংপুরের পীরগাছাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ধান সংগ্রহ করে তানোর উপজেলার কৃষকের উৎপাদিত ধান হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে তা সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং স্থানীয় কৃষকদের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত করার শামিল হবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। এদিকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (টিসিএফ) ও তানোর এলএসডি খাদ্যগুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস সময় অনুসরণ না করার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তারা রাজশাহী শহর থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করায় সময়মতো অফিসে উপস্থিত থাকেন না, ফলে কৃষকরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হন। জানা গেছে, ২০২৬ সালের অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ কর্মসূচির আওতায় তানোর উপজেলায় ৩৬ টাকা কেজি দরে এক হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন ধান, ৪৯ টাকা কেজি দরে ৪০৬ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৩০০ মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় অর্ধশত কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ কৃষকই সরকারি ধান ক্রয় কার্যক্রম সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য জানেন না। সরকার কী দামে ধান কিনছে, কীভাবে আবেদন করতে হয় কিংবা একজন কৃষক সর্বোচ্চ কতটুকু ধান সরবরাহ করতে পারবেন—এসব বিষয়েও তাদের স্পষ্ট ধারণা নেই। কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি প্রচারণার অভাবে তারা এ কর্মসূচির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (টিসিএফ) পারভিন। তিনি বলেন, “সরকারি নির্দেশনা ও নীতিমালা অনুসরণ করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।” এ বিষয়ে তানোর সরকারি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এলএসডি) আফরোজা খাতুন এর মুঠোফোন এ কল দেওয়া হলে তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত কৃষকদের সরকারি ধান সংগ্রহ কর্মসূচির সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। Post navigation গোদাগাড়ীতে এসিল্যান্ড শামসুল ইসলামের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান, দুই মাদকসেবীর কারাদণ্ড তানোর থানার ওসি এস এম মাসুদ পারভেজের নির্দেশনায় থানা পুলিশের অভিযান: ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি গ্রেপ্তার