তানোরে যুবককে আটকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ, পুলিশের অভিযানে ১৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪; একজন পলাতক

 মমিনুল ইসলাম মুন নিজস্ব প্রতিনিধি রাজশাহী :

রাজশাহীর তানোরে এক যুবককে জোরপূর্বক আটকে রেখে মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে তানোর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় আবুল হোসেন ধলু নামে আরও একজন পলাতক রয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জহুরা বেগম (৩৫), বাচ্চু মন্ডল (৩৮), রাজু আহম্মেদ (২৮) ও তাঁর স্ত্রী সুর্বনা বিবি (২০)। পলাতক আবুল হোসেন ধলুর বাড়ি তানোর এলাকায় বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর পবা উপজেলা গেটের পশ্চিম পাশে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী সুজন রহমান (৩৭) গত শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় ব্যবসায়িক কাজে তানোরে যান। এ সময় রাজু আহম্মেদ তাঁকে মোটরসাইকেলে করে তাঁর শ্বশুরবাড়ি দেবীপুরে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন। সুজন রাজুকে নিয়ে সেখানে গেলে কয়েকজন তাঁকে জোর করে একটি ঘরের ভেতরে নিয়ে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আটকে রাখার পর সুজনের কাছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাচ্চু মন্ডল বাঁশ দিয়ে তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে সুর্বনা বিবি তাঁর গলায় ধারালো ছুরি ধরে টাকা দাবি করেন। পরে তাঁকে একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয়।

পরদিন সকালে আবারও তাঁকে মারধর করে টাকা দাবি করা হলে সুজন জানান, তাঁর মুঠোফোনের বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা রয়েছে। এরপর অভিযুক্তদের দেওয়া নম্বরে তিন দফায় মোট ৮ হাজার ২০০ টাকা পাঠাতে বাধ্য হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, আরও টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে পরে সুজনকে কৃষ্ণপুর বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি পরিচিত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বাদশার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ পান। ওই সময় সুজন তাঁকে আটকে রাখার বিষয়টি জানান। বিষয়টি বুঝতে পেরে বাদশা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।

৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর তানোর থানা পুলিশ দ্রুত দেবীপুর এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের অভিযানে আটকে থাকা সুজন রহমানকে উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এ সময় তাঁর প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল নিয়ে আবুল হোসেন ধলু পালিয়ে যান। উদ্ধারের পর সুজন রহমানকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে এবং ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের দ্রুত তৎপরতা এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ নাগরিকের ফোনের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযানের ফলে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা যুবককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

By চাঁদ২৪

মমিনুল ইসলাম মুন। সম্পাদক ও প্রকাশক। দেশবার্তা বিডি ২৪. কম। 📲 01740 93 58 70 বার্তাকক্ষ-01722 320196 Email : mominulinqilab@gmail.com deshbartabd86@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *