তানোরে চাল ডিলারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীর তানোরের কলমা ইউনিয়নের (ইউপি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রিতে ডিলার জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি  ওজনে কম ও কালোবাজারে চাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগীরা জামাল উদ্দিনের ডিলারসীপ বাতিল, তাকে আটক ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষে সোহেল রানা বাদি হয়ে ডিলার জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে প্রকাশ,কলমা ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণের জন্য ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন যুবলীগ নেতা মোজাম্মেল হক ওরফে মোজামের ঘনিষ্ঠ সহচর জামাল উদ্দিন। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে নানা ধরনের অনিয়ম, অসদাচরণ ও দুর্নীতিমূলক কর্মকান্ড করে চলেছেন।প্রায় এক বছর যাবৎ উক্ত কর্মসূচির সুবিধাভোগী প্রায় ২০টি পরিবারের কার্ড নিজের কাছে  অটকে রেখে এসব কার্ডের চাল ডিলার জামাল উদ্দিন গোপণে মোজামের যোগসাজশে কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের কাছে তাদের কার্ড ফেরৎ দেয়া হচ্ছে না। তারা কার্ড ফেরৎ চাইলে তাদের কার্ড ফেরৎ না দিয়ে বিভিন্ন টালবাহানা, হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।  উপকারভোগীদের কার্ডের বিপরীতে বরাদ্দকৃত চাল ডিলার জামাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সঠিকভাবে বিতরণ না করে আত্মসাৎ করে মোজামের যোগসাজশে  কালোবাজারে বিক্রি করে আসছেন।এমনকি গ্রামের অনেক ব্যক্তির কাছে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড থাকা সত্ত্বেও তারা নিয়মিতভাবে উক্ত কার্ডের বিপরীতে প্রাপ্য চাল পাচ্ছেন না।তাদের কার্ডের বিপরীতে বরাদ্দকৃত চাল পূর্বেই উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছে ডিলার জামাল।

গ্রামের লোকজন ও সুবিধাভোগীরা একাধিকবার জামালের এসব কাজের প্রতিবাদ করলেও তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি। বরং তিনি সুবিধাভোগী ও সাধারণ গ্রামবাসীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে।

ডিলার জামালের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সরকারি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যে ব্যাহত হচ্ছে। তারা আরো বলেন, জন প্রতি ৩০ কেজি চাল দেয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে সাড়ে ২৮ কেজি। এ ছাড়াও নির্ধারিত সময়ে দোকান না খোলাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে ডিলারের বিরুদ্ধে। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন কার্ডধারী গরিবরা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুবিধাভোগী বলেন, আমাদের ডিজিটাল মিটারে পরিমাপ না করেই বালতি দিয়ে চাল বস্তায় ভরে দেওয়া হচ্ছে। পরিমাপ না করেই বলা হচ্ছে ৩০ কেজি চাল আছে। পরে অন্য দোকানে পরিমাপ করে দেখা যায় ২৭ কেজির একটু বেশি।এনিয়ে উপকারভোগীদের সঙ্গে ঝগড়া লেগেই থাকে দিনভর। কেউ শক্তভাবে প্রতিবাদ করল বিভিন্নভাবে তাকে হুমকি-ধমকি কখানো কখানো কার্ড কেড়ে নেয়া হয়। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সুবিধাভোগী কার্ড নম্বর  ১৭৮৬ (মহিলা), ১১০২, ১১২১, ১১৯১, ১৩৫৪, ১২৭০ (মহিলা), ১২৭৬, ১৩২০ (মহিলা), ১২২৬ (মহিলা)। এছাড়াও আরো অনেক সুবিধাভোগী একই ধরনের প্রতারণার শিকার শিকার হয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দরগাডাঙা হাটের এক ব্যবসায়ী (মুদিদোকান) বলেন,কাগজ-কলমে ডিলার জামাল উদ্দিন।কিন্ত্ত নিয়ন্ত্রণ করেন ইউপি যুবলীগের আলোচিত নেতা মোজাম্মেল হক ওরফে মোজাম।ভুক্তভোগী সোহেল রানা বলেন,তিনি অভিযোগ করায় তাকে অভিযোগ তুলে নিতে জামাল উদ্দিন নানাভবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন।আর জামালকে সাহস জোগাচ্ছেন মোজাম। তিনি বলেন,জামাল উদ্দিনের ডিলারসীপ বাতিল ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকার মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ডিলার জামাল উদ্দিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,তার অজান্তে

ছোটখাটো ভুল-ক্রটি হতে পারে,তবে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি।এবিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (টিসিএফ) পারভীন বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে তার ডিলারসীপ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।#

 

By চাঁদ২৪

মমিনুল ইসলাম মুন। সম্পাদক ও প্রকাশক। দেশবার্তা বিডি ২৪. কম। 📲 01740 93 58 70 বার্তাকক্ষ-01722 320196 Email : mominulinqilab@gmail.com deshbartabd86@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *