তানোরে এলজিইডির সড়ক সংস্কারকাজ থমকে, ভোগান্তিতে জনজীবন!! নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত, ঠিকাদারদের গাফিলতির অভিযোগ মমিনুল ইসলাম মুন, নিজস্ব প্রতিবেদক,রাজশাহী : রাজশাহীর তানোর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে চলমান একাধিক গ্রামীণ সড়ক সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। কোথাও ছয় মাস, কোথাও প্রায় এক বছর ধরে কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। ভাঙাচোরা ও খোয়া উঠে যাওয়া সড়কে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং দৈনন্দিন চলাচলেও সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক ভোগান্তি। স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে কয়েকজন ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখেছেন। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ একাধিকবার চিঠি ও মৌখিকভাবে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি। এলজিইডি সূত্র জানায়, জিওবি মেইনটেন্যান্স প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাত থেকে আটটি সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়। কিন্তু অধিকাংশ প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ না হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সড়কে পুরোনো খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় বালু ও নির্মাণসামগ্রী যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। কোথাও সড়কের দুই পাশের এজিংয়ে নতুন ইটের পরিবর্তে পুরোনো ইট ও মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। আবার কিছু স্থানে কালভার্ট নির্মাণেও নিম্নমানের কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তানোর পৌর এলাকার চাপড়া স্কুল মাঠ–মিরাপাড়া মোড়, আমশো গ্রাম, কলমা ইউনিয়নের কুজিশহর, আজিজপুর, দরগাডাঙ্গা–নটিপাড়া, স্বপ্নের মোড়, কাশিম বাজার–লবলবি এবং চন্দনকোঠা এলাকার সড়কগুলোর কাজ এখনও অসমাপ্ত রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি স্কুল মাঠে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও অন্যান্য কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাবাসী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে কাজ শুরু হলেও সময়মতো শেষ না করায় বর্ষায় সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। বৃষ্টিতে খোয়া উঠে কাদা ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকরা জমিতে সার, বীজ ও অন্যান্য উপকরণ নিতে পরিবহন সংকটে পড়ছেন। অনেক যানবাহন মাঝপথে বিকল হয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডির এক কর্মকর্তা বলেন, প্রায় ছয় কোটি টাকার কয়েকটি প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। ঠিকাদারদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কাজ শুরু করছেন না। নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধির কথা বলে তারা সময়ক্ষেপণ করছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত তদারকির অভাব এবং দায়িত্বশীলদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই প্রকল্পগুলো সময়মতো শেষ হয়নি। এ বিষয়ে তানোর উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার বলেন, “নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদারদের একাধিকবার চিঠি ও মৌখিকভাবে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” কাজ নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে কেনও শেষ হয়নি—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে ঠিকাদারদের ওপর চাপ প্রয়োগ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।” এদিকে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় দ্রুত কাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। Post navigation ভোরের অভিযানে বাঘায় ৩৫ বোতল ভারতীয় চোকো সিরাপসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার কটিয়াদীতে দেশীয় অস্ত্র ও ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক কারবারি শামীম ও সহযোগী গ্রেপ্তার