গোদাগাড়ী পৌরসভার ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছে, অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন 

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভায় প্রায় ১০ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নাগরিক সেবার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকল্পটির সড়ক সংস্কার ও নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, বৃষ্টির মধ্যেও ঢালাই কাজ পরিচালনা এবং প্রকৌশলীদের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশের অভিযোগ করা হয়।

তবে এসব অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে গোদাগাড়ী পৌর কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য, প্রকল্পের কাজ এখনও চলমান, নির্ধারিত সময় শেষ হয়নি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এখন পর্যন্ত কোনো বিলও পরিশোধ করা হয়নি। এ অবস্থায় কাজে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ তোলা অযৌক্তিক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আরইউটিডি প্রকল্পের আওতায় ১০ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার ৯৮০ মিটার সড়ক এবং ১ হাজার ২০০ মিটার ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির মূল ঠিকাদার ঢাকার এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে কাজ করছে রাজশাহীর এলিজা এন্টারপ্রাইজ। চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়।

এলজিইডির আরইউটিডি প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী হারেস শেখ বলেন, “বৃষ্টির আগে ঢালাইয়ের উপকরণ প্রস্তুত করা হয়েছিল। সে কারণে কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে। তবে এতে নির্মাণকাজের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।”

সহকারী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান মুকুল বলেন, “তিন নম্বর ইটের খোয়া বা নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়। সিডিউল অনুযায়ী পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। নিম্নমানের কোনো উপকরণ ব্যবহার না করার বিষয়ে ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও ভিত্তিহীন।”

এলিজা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আসাদুল ইসলাম বলেন, “বৃষ্টির কারণে ইটের রঙ কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। তবে তিন নম্বর ইট বা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও সত্য নয়।”

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র দাবি করেছে, ঠিকাদারি কার্যাদেশ না পাওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে এলজিইডি রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমি বর্তমানে ঢাকায় সরকারি সভায় আছি। রাজশাহীতে ফিরে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

By চাঁদ২৪

মমিনুল ইসলাম মুন। সম্পাদক ও প্রকাশক। দেশবার্তা বিডি ২৪. কম। 📲 01740 93 58 70 বার্তাকক্ষ-01722 320196 Email : mominulinqilab@gmail.com deshbartabd86@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *