একাধিক দপ্তরের দায়িত্বে তানোর প্রশাসনের হাল ধরেছেন ইউএনও নাইমা খান;|

উন্নয়ন, সুশাসন ও জনসেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন ; স্থানীয়দের প্রত্যাশা—দায়িত্বশীল নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক

 

 মমিনুল ইসলাম মুন নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে শূন্যতা থাকলেও থেমে নেই প্রশাসনের কার্যক্রম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাইমা খান নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং তানোর পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করছেন। ফলে একজন কর্মকর্তার কাঁধে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং জনসেবার গতি বজায় রাখার বিষয়টি এখন তানোরজুড়ে আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যানের পদ শূন্য থাকায় আইন অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব পালন করছেন। একই সময়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশিক্ষণে থাকায় ভূমি প্রশাসনের অতিরিক্ত দায়িত্বও তাঁর ওপর বর্তেছে। এর পাশাপাশি তানোর পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বও তিনি পালন করছেন।

প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলছে, অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও অফিস কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়নি। বরং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা সমন্বয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জনসেবার বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

উপজেলার দুই পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে নিয়মিত পরিদর্শন, সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম মনিটরিং এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন সময়ে গণশুনানির মাধ্যমে নাগরিকদের অভিযোগ সরাসরি শুনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগও প্রশংসিত হয়েছে।

শিক্ষা খাতে বিদ্যালয় পরিদর্শন, উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিযান, সরকারি খাসজমি উদ্ধার, অবৈধ দখলমুক্তকরণ এবং সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহীতা বলেন, অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও নামজারি, শুনানি, রেকর্ড সংশোধন ও অন্যান্য ভূমিসেবা কার্যক্রম যথাসম্ভব নিয়মিতভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বাড়াতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমও নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং সরকারি বরাদ্দ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও প্রশাসনের তদারকি জোরদার হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দুর্যোগ মোকাবিলা, খাদ্য সহায়তা, কৃষি উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সমন্বিত উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ আগের তুলনায় বেড়েছে। বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।

তানোর উপজেলার একাধিক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “একজন কর্মকর্তার ওপর চারটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকলেও তিনি সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রেখেছেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ধরে রাখার চেষ্টা দৃশ্যমান।”

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত দক্ষতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসন পরিচালনা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। সরকারের উচিত দ্রুত শূন্য পদগুলোতে নিয়মিত কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক চাপ কমানো এবং সেবার মান আরও বাড়ানো।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, অতিরিক্ত দায়িত্বের এই বাস্তবতার মধ্যেও ইউএনও নাইমা খান মাঠ প্রশাসনকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছেন। সরকারি সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তাঁর উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে তানোরে উন্নয়ন ও সুশাসনের ধারা আরও শক্তিশালী হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাইমা খান,

“দেশবার্তা বিডি২৪. কম, কে

বলেন, “সরকারি দায়িত্ব জনগণের সেবা দেওয়ার জন্য। আমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, তা যথাসাধ্য নিষ্ঠা, সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করছি। প্রশাসনের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জনসেবার মানোন্নয়ন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণের যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধান এবং সরকারি সেবা সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসন সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

By moon24

মমিনুল ইসলাম মুন। সম্পাদক ও প্রকাশক। দেশবার্তা বিডি ২৪. কম। 📲 01740 93 58 70 Email : mominulinqilab@gmail.com deshbartabd86@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *