রাজশাহীতে তিন উন্নয়ন প্রকল্পের পাঁচ ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করলেন ভূমিমন্ত্রী –  মিজানুর রহমান মিনু

👨‍💼 মো. সাজু আহমেদ, রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহী মহানগরীর ঐতিহাসিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্মৃতি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ হিসেবে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের পুনঃস্থাপিত পাঁচটি ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে মহানগরীর সিটি হাট চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব ফলক উন্মোচন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি।

দীর্ঘদিন ধরে মুছে ফেলা বা অপসারিত অবস্থায় থাকা এসব ফলক পুনঃস্থাপনের মধ্য দিয়ে রাজশাহী মহানগরীর উন্নয়ন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন করে সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সড়ক নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে নর্দমা নির্মাণ এবং মোড় প্রশস্তকরণ ও নগরের সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম। প্রকল্পগুলো তৎকালীন রাসিক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর মেয়াদকালে গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। ফলক উন্মোচন শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর রশিদ। এ সময় স্থানীয় সরকার, নগর উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমানের স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর পুনঃস্থাপন

রাসিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী মহানগরীর ফায়ার ব্রিগেড ক্রসিং থেকে উত্তর নওদাপাড়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-নাটোর মহাসড়ক পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

নগরীর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন এলাকার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছিল। এ প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর ফলকগুলো ঘোষপাড়া মোড়, মেডিকেল বন্ধগেট মোড় এবং সিটি হাট-উত্তর নওদাপাড়া মোড়ে অবস্থিত ছিল। দীর্ঘ সময় পর এসব ফলক পুনঃস্থাপন ও উন্মোচনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক স্মৃতি আবারও সামনে এসেছে।

নগরীর সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রকল্পের গুরুত্ব রয়েছে। সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, নগরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের চলাচল সহজ করার লক্ষ্যেই তৎকালীন সময়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নর্দমা নির্মাণ প্রকল্প

একই দিন, ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, রাজশাহী মহানগরীর গোরহাঙ্গা রেলগেট মোড়ে জলাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে নর্দমা নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী মো. সাইফুর রহমান।

নগরবাসীর দীর্ঘদিনের অন্যতম সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্ব অপরিসীম। নগরায়ণের বিস্তার, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে বিভিন্ন শহরে জলাবদ্ধতা নাগরিক জীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। এ প্রেক্ষাপটে রাজশাহী মহানগরীতে নর্দমা নির্মাণের উদ্যোগ নগর অবকাঠামো উন্নয়নের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তৎকালীন রাসিক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর উদ্যোগে গৃহীত এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক পুনঃস্থাপনের মধ্য দিয়ে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া অতীতের উন্নয়ন উদ্যোগের স্মৃতি সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মোড় প্রশস্তকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প

এ ছাড়া, ২০০৪ সালের ১৫ অক্টোবর গোরহাঙ্গা রেলগেট মোড়ে রাজশাহী মহানগরীর মোড় প্রশস্তকরণ ও শহর সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন রাসিক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যানবাহন চলাচল সহজ করা, সড়কের ব্যবহারযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং শহরের সামগ্রিক সৌন্দর্য উন্নয়নের উদ্দেশ্যে এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। নগরের পরিকল্পিত বিকাশে সড়ক প্রশস্তকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গোরহাঙ্গা রেলগেট এলাকার এ প্রকল্পও রাজশাহী মহানগরীর উন্নয়ন ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য স্মারক।

তিনটি প্রকল্পের পাঁচটি ভিত্তিপ্রস্তর ফলক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগের ফলে নগরীর অতীত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের পরিচিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত

ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ নূর-ঈ সাঈদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদূর রহমান ইমন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিকল্পনা) জসীম উদ্দীন আরজু, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) নিলুফার ইয়াসমিন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এবিএম আসাদুজ্জামান সুইটসহ রাসিকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল হুদা, সহসভাপতি আসলাম সরকার, ওয়ালিউল হক রানা, শফিকুল ইসলাম শাফিক, মুক্তার হোসেন ও জয়নাল আবেদীন শিবলী উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া শাহ মখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক সুমন সরদার, সদস্যসচিব নাসিম খান, বোয়ালিয়া পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম নিপু, রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম, রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান জনি, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওলিদ আবির এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর আলী জ্যাকিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বিগত সরকারের আমলে এ তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের পাঁচটি ভিত্তিপ্রস্তর ফলক মুছে ফেলা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর ফলকগুলো পুনঃস্থাপন ও উন্মোচনের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর ঐতিহাসিক স্মৃতি পুনরুদ্ধার করা হলো।

একটি নগরের উন্নয়ন কেবল নতুন অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; অতীতের উন্নয়ন উদ্যোগ, পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট স্মারক সংরক্ষণও নগরের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই বিবেচনায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের এ উদ্যোগ নগরীর উন্নয়ন ইতিহাস সংরক্ষণে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজশাহীর সড়ক যোগাযোগ, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা এবং নগর সৌন্দর্যবর্ধনে গৃহীত এসব প্রকল্পের স্মারক পুনঃস্থাপনের মধ্য দিয়ে নগরীর উন্নয়ন ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে রাজশাহী মহানগরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ, জাতি এবং রাজশাহী মহানগরীর সার্বিক উন্নতি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

By moon24

মমিনুল ইসলাম মুন। সম্পাদক ও প্রকাশক। দেশবার্তা বিডি ২৪. কম। 📲 01740 93 58 70 বার্তাকক্ষ-01722 320196 Email : mominulinqilab@gmail.com deshbartabd86@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *