পোশাক বিতর্কে ক্ষুব্ধ কৃতি শ্যানন, প্রশ্ন তুললেন নারীর স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি নিয়ে,; চোলি নিয়ে আলোচনা হওয়ায় বিস্মিত অভিনেত্রী দেশবার্তা বিডি২৪. কম, বিনোদন ডেস্ক : বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যাননের পোশাক নিয়ে বিতর্ক যেন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রাখিবন্ধন উপলক্ষে একটি গহনা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে তাঁর পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঐতিহ্যবাহী উৎসবের বিজ্ঞাপনে অভিনেত্রীর পোশাক কতটা উপযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নেটিজেনদের একাংশ। বিতর্কের একপর্যায়ে বিজ্ঞাপনটি সরিয়েও নেওয়া হয়। সম্প্রতি সেই পুরোনো ঘটনা নিয়ে মুখ খুলে নিজের বিস্ময় ও ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন কৃতি শ্যানন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে নারীর পোশাক, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সংস্কৃতি এবং সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সম্প্রতি অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খানের সঙ্গে এক কথোপকথনে রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপন ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন কৃতি। নিজের পোশাকের একটি অংশ, বিশেষ করে চোলি, কীভাবে বিভিন্ন মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল, তা এখনো বিশ্বাস করতে পারেন না বলে জানান তিনি। কৃতি শ্যাননের ভাষায়, নিজের পরনের চোলি নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়েছে—এ বিষয়টি তাঁর কাছে বিস্ময়কর। কারিনা কাপুর খানও তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। দুই অভিনেত্রীর এই কথোপকথনে আবারও সামনে এসেছে নারীর পোশাক নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি। যেভাবে শুরু হয়েছিল বিতর্ক বিতর্কের সূত্রপাত রাখিবন্ধন উপলক্ষে একটি গহনা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে। বিজ্ঞাপনটিতে কৃতিকে তাঁর ভাইয়ের হাতে রাখি পরিয়ে দিতে দেখা যায়। একই সঙ্গে নিজের পোষ্য কুকুরের হাতেও রাখি পরান তিনি। বিজ্ঞাপনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কৃতির পোশাক এবং পোষ্যকে রাখি পরানোর বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেন নেটিজেনদের একাংশ। সমালোচকদের দাবি ছিল, রাখিবন্ধনের মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবের বিজ্ঞাপনে অভিনেত্রীর পোশাক যথাযথ হয়নি। আবার পোষ্য কুকুরকে রাখি পরানোর বিষয়টিও কারও কারও সমালোচনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। একপর্যায়ে বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এই বিতর্ক শুধু একটি বিজ্ঞাপন কিংবা একজন অভিনেত্রীর পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং নারীরা কী পরবেন, কোন পোশাক কোন পরিবেশে গ্রহণযোগ্য এবং পোশাকের ভিত্তিতে কারও সংস্কৃতি বিচার করা কতটা যুক্তিসংগত—এসব প্রশ্নও সামনে চলে আসে। ‘নারীর পোশাক নিয়ে এত আলোচনা কেন?’ পোশাক নিয়ে সমালোচনার জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন কৃতি শ্যানন। নারীদের কী পোশাক পরা উচিত, তা নিয়ে এখনো কেন এত আলোচনা হয়—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। কৃতির বক্তব্যের মূল কথা হলো, সময়ের সঙ্গে পোশাকের ধরন বদলায়। ভারতীয় পোশাকের নকশা, উপস্থাপন ও পরার ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। তাই কোনো নারীর পোশাক দেখেই তাঁর সংস্কৃতি, মূল্যবোধ কিংবা ঐতিহ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। তাঁর মতে, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কেবল পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের চিন্তা, মনন, আচরণ ও মূল্যবোধের মধ্যেই এর প্রকৃত পরিচয় নিহিত। পোশাকের ধরন দিয়ে একজন নারীর সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্ধারণের প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়েও সরব রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপন ঘিরে বিতর্কের পর নারীর পোশাক, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে একাধিক পোস্টও শেয়ার করেছিলেন কৃতি শ্যানন। যদিও এসব পোস্টে তিনি সরাসরি ওই বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি, তবু তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে নারীর পোশাক নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়টি মিলিয়ে দেখছেন অনেকে। নারীর পোশাক নিয়ে সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিচার-বিশ্লেষণ এবং সমালোচনার প্রবণতা নতুন নয়। কোনো নারী কী পরবেন, তাঁর পোশাক কতটা শালীন কিংবা কোন পোশাক কোন অনুষ্ঠানে মানানসই—এসব প্রশ্ন প্রায়ই সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে। এ ক্ষেত্রে নারীর নিজস্ব পছন্দ ও স্বাধীনতার বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পায়, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। কৃতি শ্যাননের বক্তব্য সেই পুরোনো আলোচনাকেই নতুন করে সামনে এনেছে। তাঁর প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট, পোশাকের মতো ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে একজন নারীকে বারবার সমালোচনার মুখে পড়তে হওয়াকে তিনি স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না। পোশাক নয়, মূল্যবোধেই সংস্কৃতির পরিচয় রাখিবন্ধন ভারতের একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে ভাই-বোনের সম্পর্ক, পারিবারিক বন্ধন ও আবেগের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। ফলে উৎসবটির বিজ্ঞাপনে পোশাক ও উপস্থাপনা নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা থাকতেই পারে। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার অভিযোগ থেকে একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত পোশাক নিয়ে বিস্তৃত বিতর্ক তৈরি হওয়া কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে রয়েছে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখার প্রত্যাশা, অন্যদিকে রয়েছে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নির্বাচনের অধিকার। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে সমাজে ভিন্নমত থাকতেই পারে। তবে পোশাকের ভিত্তিতে কাউকে অসম্মান করা কিংবা তাঁর সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার প্রবণতা যে নতুন করে আলোচনার দাবি রাখে, কৃতির বক্তব্যে সেই বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে। সব মিলিয়ে, রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপন ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক আবারও প্রমাণ করেছে যে তারকাদের ব্যক্তিগত পছন্দ ও পোশাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহজেই বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। কৃতি শ্যাননের প্রতিক্রিয়া সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—একজন নারীর পোশাক নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে আমরা কি তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিজস্ব পছন্দের অধিকারকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি? Post navigation রাধিকার ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস, সেটে মোবাইল নিষিদ্ধের পরামর্শ উড়োজাহাজে শাকিবের পাশে মিথিলা, নিউইয়র্ক সফর ঘিরে ভক্তদের কৌতূহল