সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান, এক মাসে গ্রেফতার ৫৩ হাজার,; ডিসেম্বর ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কতা দেশবার্তা বিডি২৪. কম,ডেস্ক রিপোর্ট : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে সারা দেশে প্রায় ৫৩ হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসের প্রথম ছয় দিনেই গ্রেফতার হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার। গ্রেফতারদের বড় একটি অংশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, ডিসেম্বরকে সামনে রেখে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সহিংসতা, নাশকতা ও জনজীবনে অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আত্মগোপনে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে—এমন নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ জনকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ৪৬৫ জনকে গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙা করার কৌশল হিসেবে দেখছেন। আবার কারও মতে, ভারত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যস্থতায় নিরাপত্তা ও আইনি নিশ্চয়তার ভিত্তিতে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে শুধু মনস্তাত্ত্বিক কৌশল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পুনর্বাসন এবং দেশের মাটিতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগের আকাঙ্ক্ষাও এর পেছনে কাজ করতে পারে। তবে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা উপযুক্ত সময়ে মাঠে নামলে শুধু সাঁড়াশি অভিযান দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, সমঝোতা ছাড়াই দেশে ফেরার পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু গণগ্রেফতার বা পুলিশি শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মূল উসকানিদাতাদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। এদিকে ব্যাপক গ্রেফতারের ফলে দেশের কারাগারগুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ধারণক্ষমতার তুলনায় কারাগারগুলোতে বন্দির সংখ্যা বেশি থাকায় নতুন করে ব্যাপক গ্রেফতার হলে বন্দি ব্যবস্থাপনায় সংকট আরও বাড়তে পারে। পুলিশ সদর দপ্তরের একজন অতিরিক্ত আইজিপি জানান, আত্মগোপনে থেকে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনাকারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা ঠেকাতে সাইবার পুলিশ ইউনিটও নজরদারি বাড়িয়েছে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ বলেছেন, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা জনজীবন অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামও জানিয়েছেন, যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি কঠোরভাবে প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। Post navigation নাশকতার আশঙ্কায় মাঠে গোয়েন্দা নজরদারি, তালিকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে কিশোরী তাজমিন হত্যার ঘটনায় ভুক্তভোগীকে দোষারোপের বিরুদ্ধে অ্যাডভোকেট মায়া আক্তারের প্রতিবাদ,, ‘পোশাক বা রাতে বাইরে থাকা নয়, অপরাধীর বিচারই হোক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু’