সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি-দুর্নীতিতে ছাড় নয়: তারেক রহমানের কঠোর বার্তা বিশেষ প্রতিনিধি : সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় পরিচয় অপরাধীদের কোনো ধরনের সুরক্ষা দেবে না—এমন অবস্থানেরই প্রতিফলন হিসেবে নিজের দলের এক নারী সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে অতীতে অনেক ক্ষেত্রেই দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নজির কম ছিল। ফলে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রচ্ছায়ায় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত বুধবার রাতে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম আলোচনায় আসার পর তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়। দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত পদত্যাগ না করলে আরও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দলীয় শৃঙ্খলা ও অপরাধের বিষয়ে তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নেতাদের বিরুদ্ধেও অতীতে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির বহু নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমানের অবস্থান হলো—অপরাধ করলে দলীয় পরিচয় কোনো ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি কিংবা দখলদারির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতা বা জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে দলীয় স্বার্থে তা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সমস্যা। এতে অপরাধীদের মধ্যে একধরনের দায়মুক্তির মানসিকতা তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনীতির প্রতি আস্থার সংকট দেখা দেয়। এ কারণে নিজ দলের অপরাধীদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকাকালীনও দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। দলীয়ভাবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বিএনপি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অনেক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে পদত্যাগের নির্দেশনার ঘটনায় বিএনপির ভেতরে-বাইরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এটিকে দলীয় শুদ্ধি কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তারেক রহমানের এ অবস্থান শুধু বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য নয়, অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও একটি বার্তা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না,এমন অবস্থান কার্যকর হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অপরাধের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা এবং একই সঙ্গে আইনগত প্রক্রিয়া কার্যকর থাকলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই কঠোর অবস্থানেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। Post navigation আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরলেন দুই নারী হার্টে ছিদ্র নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে শিশু ফারদিন, চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু