পুঠিয়ায় তিন মাসব্যাপী মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু ;| ইউএনও লিয়াকত সালমানের নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, জনসচেতনতার আহ্বান মমিনুল ইসলাম মুন, নিজস্ব প্রতিনিধি রাজশাহী : ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় তিন মাসব্যাপী মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। দেশব্যাপী মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস। পুরো কার্যক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমানের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রোভার স্কাউট, রেড ক্রিসেন্টের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। উদ্বোধনী কর্মসূচির অংশ হিসেবে পুঠিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। এ সময় একটি রোভার স্কাউট দল পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতা করে। পাশাপাশি উপজেলার বিড়ালদহ এলাকায় অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধ চত্বরেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে রেড ক্রিসেন্টের একটি দল কার্যক্রমে সহযোগিতা করে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ, জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উপজেলা জুড়ে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ শুধু প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যাতে পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি মশক নিধন কার্যক্রমকে কার্যকর করতে হলে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন মাসব্যাপী এ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে পুঠিয়াকে পরিচ্ছন্ন ও মশকমুক্ত রাখতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হয়। তাই নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুঠিয়ার সর্বস্তরের জনগণকে নিজ নিজ বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি যেকোনো স্থানে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে Post navigation সার্ভেয়ার কবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ইউএনও লিয়াকত সালমান ও এসিল্যান্ড শিবু দাসের উদ্যোগে হাড়খালি খালে ১৭টি অবৈধ জালের বাঁধ অপসারণ