বিয়ের ক্ষেত্রে ইসলামের কঠোর নিষেধাজ্ঞা: যেসব ১৪ নারী চিরতরে হারাম দেশবার্তা বিডি ২৪. কম, ইসলামী ডেস্ক : বিয়ে ইসলামে শুধু দুজন মানুষের পারিবারিক বন্ধন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বংশপরিচয়, আত্মীয়তার মর্যাদা ও সামাজিক শৃঙ্খলা। তাই শরিয়তে যেমন বিয়েকে উৎসাহিত করা হয়েছে, তেমনি নির্দিষ্ট কিছু সম্পর্কের নারীর সঙ্গে বিয়ে চিরতরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে এসব সম্পর্কের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, রক্তের সম্পর্ক, দুধসম্পর্ক ও বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে কিছু নারী পুরুষের জন্য চিরতরে বিয়ের অযোগ্য হয়ে যান। এসব সম্পর্কের মধ্যে রয়েছেন মা, মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে, দুধমা, দুধবোন, শাশুড়ি, স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের পর তার মেয়ে এবং ছেলের স্ত্রী। একই সঙ্গে একজন নারী স্ত্রী হিসেবে থাকা অবস্থায় তার বোনকে বিয়ে করাও নিষিদ্ধ। যেসব নারীকে বিয়ে করা নিষিদ্ধ ১. মা ও ঊর্ধ্বতন নারী নিজের মা এবং বংশের ওপরের দিকে থাকা দাদি-নানি প্রমুখকে বিয়ে করা চিরতরে নিষিদ্ধ। ২. মেয়ে ও অধস্তন বংশধর নিজের মেয়ে এবং বংশধারায় নিচের দিকে থাকা নাতনি-প্রপৌত্রীসহ কন্যাসন্তানদের বিয়ে করা হারাম। ৩. বোন সহোদরা, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয়—সব ধরনের বোনই বিয়ের জন্য নিষিদ্ধ সম্পর্কের অন্তর্ভুক্ত। ৪. ফুফু বাবার বোন অর্থাৎ ফুফুকে বিয়ে করা ইসলামে চিরতরে নিষিদ্ধ। ৫. খালা মায়ের বোন অর্থাৎ খালাকেও বিয়ে করা যায় না। ৬. ভাইয়ের মেয়ে নিজের ভাইয়ের মেয়ে অর্থাৎ ভাতিজি বিয়ের জন্য স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ। ৭. বোনের মেয়ে নিজের বোনের মেয়ে অর্থাৎ ভাগনিকেও বিয়ে করা হারাম। ৮. দুধমা শৈশবে শরিয়তসম্মত দুধপানের মাধ্যমে যে নারী দুধমা হিসেবে সাব্যস্ত হন, তাকে বিয়ে করা বৈধ নয়। ৯. দুধবোন দুধসম্পর্কের কারণে যে নারী বোনের মর্যাদা লাভ করেন, তাকেও বিয়ে করা নিষিদ্ধ। হাদিসে দুধসম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। ১০. শাশুড়ি স্ত্রীর মা অর্থাৎ শাশুড়িকে বিয়ে করা চিরতরে নিষিদ্ধ। বৈবাহিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি জামাতার জন্য মাহরাম হয়ে যান। ১১. সৎমেয়ে স্ত্রীর আগের সংসারের মেয়ে অর্থাৎ সৎমেয়েকে বিয়ের বিষয়ে শরিয়তে নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হলে তার মেয়ে বিয়ের জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যায়। তবে শুধু বিয়ের চুক্তি হয়েছিল, দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়নি—এ ক্ষেত্রে বিধান ভিন্ন। ১২. পুত্রবধূ নিজের ঔরসজাত ছেলের স্ত্রীকে বিয়ে করা চিরতরে নিষিদ্ধ। পুত্রবধূর সঙ্গে বিয়ের কোনো বৈধ সুযোগ নেই। ১৩. স্ত্রীর বোন একজন নারী স্ত্রী হিসেবে বিবাহবন্ধনে থাকা অবস্থায় তার বোনকে একই সময়ে বিয়ে করা যায় না। অর্থাৎ দুই বোনকে একই সময়ে একজন পুরুষের স্ত্রী হিসেবে রাখা ইসলামে নিষিদ্ধ। ১৪. নির্দিষ্ট দুধসম্পর্কের নারী শরিয়তে যেসব দুধসম্পর্ককে রক্তসম্পর্কের সমপর্যায়ের মাহরাম সম্পর্ক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, সেসব সম্পর্কের নারীদেরও বিয়ে করা নিষিদ্ধ। অর্থাৎ দুধসম্পর্কের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মাহরাম সম্পর্কগুলো বিয়ের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে। কোরআনে কী বলা হয়েছে? পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মা, কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে, দুধমা, দুধবোন, শাশুড়ি, সৎমেয়ে, পুত্রবধূসহ নির্দিষ্ট সম্পর্কের নারীদের সঙ্গে বিয়েকে নিষিদ্ধ করেছেন। একই আয়াতের শেষাংশে আল্লাহ তাআলা আত্মীয়তার এসব সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এর পরের আয়াতেও বিয়ের ক্ষেত্রে আরও কিছু বিধিনিষেধ উল্লেখ করা হয়েছে। সাময়িক নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে বিয়ের ক্ষেত্রে সব নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী নয়। যেমন—একজন পুরুষ একই সময়ে দুই বোনকে স্ত্রী হিসেবে রাখতে পারবেন না। কিন্তু একজনের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পর শরিয়তের নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী অন্য বোনকে বিয়ের বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচিত হয়। এ ছাড়া কোনো নারী অন্যের বৈধ স্ত্রী থাকা অবস্থায় তাকে বিয়ে করা বৈধ নয়। এসব ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী শরিয়তের আলাদা বিধান রয়েছে। কেন এই নিষেধাজ্ঞা? ইসলামী শরিয়তে বিয়ের ক্ষেত্রে এসব সীমারেখার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পরিবার ও আত্মীয়তার কাঠামো সুরক্ষিত রাখা, বংশপরিচয় সুস্পষ্ট রাখা এবং সামাজিক সম্পর্কের মর্যাদা বজায় রাখা। নিকট আত্মীয়তার কিছু সম্পর্ককে বিয়ের বাইরে রেখে ইসলাম পরিবারব্যবস্থায় একটি সুস্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করেছে। তবে বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শুধু সাধারণ ধারণার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কোনো নির্দিষ্ট সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিয়ে বৈধ কি না—তা নিয়ে সংশয় থাকলে সংশ্লিষ্ট আত্মীয়তার ধরন ও পরিস্থিতি জানিয়ে যোগ্য আলেম বা মুফতির কাছ থেকে শরিয়তসম্মত পরামর্শ নেওয়া উচিত। সারকথা, ইসলামে বিয়ের সুযোগ যেমন বৈধ ও উৎসাহিত, তেমনি কিছু সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা মেনে এসব সীমারেখা জানা ও মানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। Post navigation প্রেমের টানে পালিয়ে বিয়ে, ইসলামের বিধান কী?