ধামইরহাটে রাতের আঁধারে পুকুরের মাছ লুট, কাটা হলো শতাধিক কলাগাছ ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি,: নওগাঁর ধামইরহাটে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পুকুর থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ নিয়ে যাওয়া এবং পুকুরপাড়ের শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শাহা আলম সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৪০ জনকে আসামি করে ধামইরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিরা হলেন জাহানপুর ইউনিয়নের সাহাপুর এলাকার মৃত অফির উদ্দীনের ছেলে আইনুল হক সরকার (৬৫), মৃত কছিমদ্দীনের ছেলে সোয়েব হোসেন (৫৫), আব্দুর রহিমের ছেলে হাফিজুল ইসলাম (৩০), গোলাম রব্বানীর ছেলে মাসুম বিল্লাহ (৩০) এবং ইসবপুর ইউনিয়নের চান্দপুর এলাকার অজিমদ্দিনের ছেলে মমসাদ (৪৫)। থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জাহানপুর ইউনিয়নের সাহাপুর মৌজার ১৩ নম্বর খতিয়ানের ৩৮ নম্বর দাগে ২ দশমিক ৩৩ একর খতিয়ানভুক্ত জমির একটি পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছিলেন শাহা আলম। একই এলাকার ১৪/১ নম্বর খতিয়ানের ৩০৯৯ নম্বর দাগে ১ দশমিক ৪৯ একর খতিয়ানভুক্ত পুকুরপাড়ে তিনি কলাগাছও রোপণ করেন। অভিযোগে বলা হয়, পুকুরপাড়ের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শাহা আলমের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ চলছিল। এরই জেরে রোববার রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুকুরপাড়ে প্রবেশ করেন। পরে সেখানে থাকা শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় পুকুরে চাষ করা রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫০ মণ মাছ একটি ইঞ্জিনচালিত পিকআপে করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন শাহা আলম। এতে তার প্রায় ৯০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শাহা আলম বলেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা জমা করে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এ ছাড়া ওই জমির আশপাশে গেলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রাণভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না বলে জানান। তিনি আরও বলেন, রোববার রাতে আইনুল হকের বাড়িতে প্রায় দেড়শ মানুষ আসা যাওয়া করছিলেন। পরদিন ভোরে স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি পুকুরের মাছ নিয়ে যাওয়া ও কলাগাছ কেটে ফেলার বিষয়টি জানতে পারেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনাস্থলে পুকুরপাড়ে কাটা কলাগাছ ও কিছু মাছ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শাহা আলমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আইনুল হক বলেন, ক্রয়কৃত দলিলের মাধ্যমে ওই জমির মালিকানা তার। তবে গাছ কাটা কিংবা মাছ নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনি জড়িত নন। এ বিষয়ে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান বলেন, গাছ কাটা ও পুকুর থেকে মাছ নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। Post navigation এলজিইডির কার্যসহকারীকে জিম্মি করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগ, ১ লাখ ২০ হাজার টাকার চেক উদ্ধার,হানিট্র্যাপ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার বেলঘড়িয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৮ পরীক্ষার্থীর ১৭ জনই ফেল, উঠছে নানা প্রশ্ন