কাফনের কাপড় পাঠিয়ে বিএনপি নেতাসহ ১৩ জনকে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি

দেশবার্তা বিডি২৪. কম ডেস্ক :

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ডাকযোগে কাফনের কাপড় ও হুমকিমূলক চিঠি পাঠিয়ে উপজেলা বিএনপির এক নেতাসহ ১৩ জনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় মাধবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হুমকি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মীর খোরশেদ আলম। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের উন্নয়ন কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই মাধবপুর ডাকঘরের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করা একটি পার্সেল আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে পৌঁছে। পার্সেলটি খুলে দেখা যায়, এতে পৃথক নামে ১৩টি খাম রয়েছে। প্রতিটি খামের ভেতরে একটি করে কাফনের কাপড়ের টুকরা এবং কম্পিউটারে টাইপ করা হুমকিমূলক চিঠি ছিল।

চিঠিতে মীর খোরশেদ আলমকে উদ্দেশ করে কয়েক দিনের মধ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আনোয়ার হোসেন, মাহমুদ হোসেন, মিসির আলী, আব্দুল গফুর, কন্ট্রাক্টর মিজান, বজলু, সৈয়দ শিব্বির আহমদ, সৈয়দ আনাস, সৈয়দ তালহা, সৈয়দ তানজির ও সৈয়দ নোমানসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া চিঠিতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট একজনকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর হত্যা, মিথ্যা মামলা, চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিঠির শেষে ‘সচেতন যুব সমাজ’ নামে স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ দ্রষ্টব্য হিসেবে লেখা হয়, ‘চিঠির সঙ্গে অগ্রিম কাফনের কাপড়ের নমুনা পাঠালাম, বাকিটা কিনে রাখিস।’

ঘটনার পর মীর খোরশেদ আলম মাধবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন এবং বিষয়টি হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে চিঠি প্রেরণকারীকে সরাসরি যোগাযোগের আহ্বান জানান।

আদাঐর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা শফিকুর রহমান শফিক বলেন, চেয়ারম্যানের নামে আসা পার্সেল খুলে একাধিক হুমকিমূলক চিঠি ও কাফনের কাপড় পাওয়া যায়। এরপর থেকেই এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মীর খোরশেদ আলম বলেন, “আমি জেনেশুনে কারও কোনো ক্ষতি করিনি। কারও কোনো অভিযোগ বা ক্ষোভ থাকলে সরাসরি বলতে পারে। এ ধরনের হত্যার হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি।”

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান হামদু বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকে এভাবে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা নিন্দনীয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। পার্সেল ও চিঠিটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চিঠিটি নবীগঞ্জ থেকে ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


 

By moon24

মমিনুল ইসলাম মুন। সম্পাদক ও প্রকাশক। দেশবার্তা বিডি ২৪. কম। 📲 01740 93 58 70 Email : mominulinqilab@gmail.com deshbartabd86@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *