তানোরের ২ নম্বর বাধাইড় ইউপি চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় বিএনপি নেতা আল আমিন হক পলাশ মমিনুল ইসলাম মুন, নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহীর তানোর উপজেলার ২ নম্বর বাধাইড় ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এ আলোচনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে আসছে বাধাইড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আল আমিন হক পলাশের নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ে ধারাবাহিক সাংগঠনিক তৎপরতা, ব্যবসায়িক পরিচিতি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তিনি ইউনিয়নের অন্যতম আলোচিত সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন দশক ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আল আমিন হক পলাশ। তিনি রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি বাধাইড় ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। এরপর ২০০২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টানা ১৭ বছর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে তিনি বাধাইড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পান এবং বর্তমানে সেই দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ ও বিএড ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষামূলক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। তানোর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের বাসিন্দা আল আমিন হক পলাশ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে স্থানীয়দের আস্থা অর্জন করেছেন বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। 🌎Visit to get the latest news http://www.deshbartabd24.com স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে সহজ-সরল জীবনযাপন, বিনয়ী আচরণ এবং মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকার কারণে তিনি এলাকায় পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা তাকে অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের তুলনায় আলোচনায় রেখেছে বলে স্থানীয়দের অভিমত। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও ওয়ার্ডে গণসংযোগ, কুশল বিনিময় ও মতবিনিময় শুরু করেছেন আল আমিন হক পলাশ। এসব কর্মসূচিতে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তিনি এলাকার সড়ক যোগাযোগ, কৃষি উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে মতামত সংগ্রহ করছেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি শুধু নির্বাচনী প্রচারণায় নয়, বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত উদ্যোগেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সমর্থকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক সক্ষমতা, ব্যবসায়িক পরিচিতি এবং জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডের কারণে ইউনিয়নজুড়ে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। বিভিন্ন এলাকায় তার গণসংযোগে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও এ আগ্রহের প্রতিফলন বলে তারা উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার কথাও তুলে ধরেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে আল আমিন হক পলাশ একাধিকবার প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হন। এমনকি পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে তাকে প্রায় তিন মাস আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল বলেও তারা দাবি করেন। আল আমিন হক পলাশ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থেকে কাজ করার চেষ্টা করেছি। জনগণ যদি আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেন, তাহলে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করব। শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থানের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “চেয়ারম্যান পদ কোনো ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়; এটি মানুষের সেবার একটি দায়িত্ব। আমি সেই দায়িত্ব পালনের সুযোগ চাই। বাধাইড় ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষ যেন সমানভাবে নাগরিক সেবা পান, সেটিই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। এজন্য আমি ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করছি।” স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। সেই প্রেক্ষাপটে নিয়মিত গণসংযোগ, সাংগঠনিক সক্রিয়তা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে আল আমিন হক পলাশ বাধাইড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদের আলোচিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের একজন হিসেবে উঠে এসেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন, নির্বাচনী সমীকরণ এবং ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। Post navigation রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে যোগ দিলেন মো. আশিক সাঈদ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পেশাদারিত্ব ও জনসেবামুখী পুলিশিং জোরদারের নির্দেশনা নওহাাটা খাদ্য গুদামে লোডিং বাণিজ্যে