রাবিতে ছাত্রদলের হামলায় ৪ সাংবাদিকসহ আহত ১০ মো: সবুজ মিয়া, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহত সাংবাদিকদের কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিকরা হলেন, আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান এবং দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাতের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় সাংবাদিকরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হাতে থাকা অস্ত্রের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথমে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজুকে মারধর করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবানসহ কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন। পরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে অন্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে জাহিদুল ইসলাম মাথায় আঘাত পান। সাংবাদিকদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থীও হামলায় আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টে সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাজিম মৃধা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানিয়েছেন। দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ। আমাদের দ্বারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি। কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা এম আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। ওই পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আহসান হাবীব ও রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি পোস্ট হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবস্থানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা। Post navigation বাংলাদেশ পুলিশ মেধা বৃত্তি পেলেন ইন্সপেক্টর আনোয়ার আলী তুহিনের ছেলে আরাফাত আনোয়ার নিয়ামতপুরে ৬ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো সাজ্জাদের লাশ