মাসিকের ব্যথা: ঘরোয়া উপায়ে আরাম, কখন ওষুধ ও চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি দেশবার্তা বিডি ২৪. কম, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য ডেস্ক : মাসিকের আগে বা মাসিক শুরুর প্রথম কয়েক দিনে তলপেট, কোমর ও পিঠে ব্যথা হওয়া নারীদের খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। কারও কারও ক্ষেত্রে ব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা খাবারে অরুচিও দেখা দিতে পারে। সাধারণত জরায়ুর সংকোচনের কারণে এ ধরনের ব্যথা হয় এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যে তা কমে যায়। গরম সেঁকে মিলতে পারে আরাম মাসিকের ব্যথা কমাতে তলপেট বা কোমরে গরম পানির ব্যাগ কিংবা হিটিং প্যাড দিয়ে সেঁক দেওয়া যেতে পারে। গরম পানিতে গোসল, পেট ও কোমরে হালকা ম্যাসাজ এবং হাঁটা, সাঁতার বা হালকা ব্যায়ামও অনেকের ক্ষেত্রে উপকার দিতে পারে। এ সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা, সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া ভালো। শাকসবজি, ফল, ডাল, ডিম, মাছসহ পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। কোন ওষুধে কমতে পারে ব্যথা? মাসিকের ব্যথায় প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যায়। তবে সাধারণ মাসিকের খিঁচুনি বা ব্যথায় আইবুপ্রোফেনের মতো NSAID অনেক ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর এবং এ ধরনের ওষুধ মাসিকের ব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। আরেকটি ওষুধ অ্যালজিন (Algin 50 mg)। এর কার্যকর উপাদান Tiemonium methylsulfate, যা শরীরের মসৃণ পেশির খিঁচুনি কমাতে ব্যবহৃত একটি antispasmodic ওষুধ। বাংলাদেশে এটি জরায়ুর খিঁচুনি ও মাসিকজনিত ব্যথাসহ বিভিন্ন spasmodic pain-এ ব্যবহারের জন্য তালিকাভুক্ত। তবে অ্যালজিন, আইবুপ্রোফেন বা অন্য কোনো ব্যথানাশক নিজে থেকে নিয়মিত খাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার সম্ভাবনা থাকলে, কিডনি বা লিভারের সমস্যা, পেটের আলসার, হাঁপানি, হৃদ্রোগ কিংবা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে ওষুধ নেওয়ার আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। আইবুপ্রোফেন গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়। শুধু ওষুধ খেলেই কি সমাধান? সবসময় নয়। কারও মাসিকের ব্যথা যদি প্রতি মাসে অত্যন্ত বেশি হয়, দিন দিন বাড়তে থাকে কিংবা ব্যথার কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এর পেছনে অন্য কোনো রোগ থাকতে পারে। এন্ডোমেট্রিওসিস, অ্যাডেনোমায়োসিস, জরায়ুর ফাইব্রয়েড বা পেলভিক ইনফেকশনের মতো সমস্যাতেও তীব্র মাসিকের ব্যথা হতে পারে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক আল্ট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করতে পারেন। কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন? মাসিকের ব্যথা যদি অসহ্য হয় বা আগের তুলনায় হঠাৎ বেড়ে যায়, সাধারণ ব্যথানাশকেও না কমে, অতিরিক্ত রক্তপাত হয়, মাসিক অনিয়মিত হয়ে যায়, মাসিকের মাঝখানে রক্তপাত হয়, সহবাসের সময় ব্যথা হয় কিংবা প্রস্রাব-পায়খানার সময় ব্যথা দেখা দেয়—তাহলে গাইনি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনিয়মিত মাসিক মানেই ক্যানসার নয় মাসিক অনিয়মিত হলেই ব্রেস্ট ক্যানসার, কোলন ক্যানসার বা জরায়ুর ক্যানসার হয়—এমন ধারণা সঠিক নয়। অনিয়মিত মাসিকের পেছনে হরমোনের পরিবর্তন, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS), থাইরয়েডের সমস্যা, ওজনের পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তবে দীর্ঘদিন মাসিকের সমস্যা থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্তনে নতুন চাকা, স্তনের আকার বা ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন, বোঁটা দিয়ে অস্বাভাবিক রস বা রক্ত বের হওয়া কিংবা বগলে গুটি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। সচেতনতাই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ মাসিকের ব্যথাকে স্বাভাবিক ভেবে অসহ্য যন্ত্রণা দীর্ঘদিন সহ্য করা উচিত নয়। গরম সেঁক, পর্যাপ্ত পানি, পুষ্টিকর খাবার, হালকা ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত বিশ্রামে অনেকের ব্যথা কমে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, মাসিকের ব্যথার জন্য একটি ওষুধ সবার জন্য সমানভাবে উপযুক্ত নয়। তাই ব্যথা বারবার হলে শুধু ব্যথার ওষুধ না খেয়ে এর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। Post navigation ভাঙ্গুড়ায় রাতে নেশা, দিনে ডিউটিতে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ; তদন্তের আশ্বাস সিভিল সার্জনের