মাউশির রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালককে সরাতে চক্রান্ত: তৎপর দালাল চক্র নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক পদে যোগদানের মাত্র তিন সপ্তাহের মাথায় অধ্যাপক হুমায়ুন কবিরকে সরিয়ে দেওয়ার এক গভীর চক্রান্তের অভিযোগ উঠেছে।সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর স্থানীয় রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি সংঘবদ্ধ ও সক্রীয় দালাল চক্র সিন্ডিকেট এমপিওভুক্তি এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বদলি বাণিজ্য পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে এই চক্রান্ত শুরু করেছে বলে আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় সুত্র জানায়,এই দালাল চক্ নব্য নিয়োগ পাওয়া পরিচালককে বদলি বা অপসারণ করতে একজন মন্ত্রীকে অপব্যবহারের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। এই উদ্দেশে তারা চক্রাকারে বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ বা লেনদেনের জোর তৎপরতা শুরু করেছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা জানান, সৎ ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক হুমায়ুন কবিরের নিজ জেলা বগুড়া।তিনি বগুড়ার বাসিন্দা হওয়ায় বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে তিনি দীর্ঘ সময় পদোন্নতি ও স্বাভাবিক চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। দীর্ঘ বঞ্চনার পর সম্প্রতি তিনি মাউশি রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তার সততা ও কর্মপদ্ধতিতে বাধাগ্রস্ত হয়ে তাকে অপসারণের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের গভীর ষড়যন্ত্রের কারণে মিথ্যা মামলায় ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি মহামান্য হাইকোর্টের রায় থাকা সত্ত্বেও নিম্ন আদালত তার জামিন বাতিল করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজশাহী মহানগরের তৎকালীন আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুর রহমান বাদশা (পরবর্তীতে সংসদ সদস্য)আদালতকে প্রভাবিত করতে বিভিন্ন ধরনের মানববন্ধন করেন। তাকে একটি মিথ্যা মামলায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের কারণে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ছয় মাস তিন দিন বন্দী জীবনযাপন করেন। পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনায় প্রথমে জামিন দেয়া হয় এবং পরবর্তীতে উক্ত মামলায় তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। শুধুমাত্র বগুড়ায় বাড়ি হওয়ার কারণে এবং ছাত্র জীবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক হওয়ার কারণে তিনি ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে বরখাস্ত ছিলেন এবং তাকে সোনাগাজী সরকারি কলেজ ফেনীতে বরখাস্ত করে রাখা হয়। পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় তিনি ২০১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে পদোন্নতি পান। উল্লেখ্য যে, উক্ত মামলায় ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার মা ২৬ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। ২০১১ সালের ২৬ জানুয়ারি তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হলেও ডান্ডাবেরী পড়ানোর আদেশ দেয়া হয়। ফলে তিনি ডান্ডাবেড়িসহ জানাযায় উপস্থিত হতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে ওই সময় তার মৃত মায়ের জানাযায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি । রাজশাহীতে শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষে এমন অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টায় চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এসব কর্মকর্তা জানান, “একজন দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাকে যোগদানের পরপরই রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলকে ব্যবহার করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা পুরো শিক্ষা ক্যাডারের জন্য আশঙ্কাজনক। এর পেছনে মূলত অবৈধ বদলি বাণিজ্য ও এমপিও সিন্ডিকেট পুনরায় চালু করার উদ্দেশ্যই কাজ করছে। সচেতন মহলের ভাষ্য শিক্ষা বান্ধব এই কর্মকর্তাকে রাজশাহীতে রাখতে না পারলে রাজশাহী অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থা চরম ক্ষতির মুখে পড়বে।তাই এখানোই এই সিন্ডিকেট চক্রের অপতৎপরতা রুখে দিতে হবে,এটাই এই জনপদের মানুষের প্রত্যাশা। এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীল কারো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।# Post navigation দুর্গাপুরে ধর্ষণচেষ্টা মামলার পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৫ তানোর থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ;| ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও হেরোইন উদ্ধার