পুঠিয়ায় অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক বাল্ব স্থাপন; সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাসের উদ্যোগে আলোয় ফিরল সুরেশ্বরী ও পূর্ব কাঁঠালবাড়িয়া মমিনুল ইসলাম মুন নিজস্ব প্রতিনিধি রাজশাহী : রাজশাহীর পুঠিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অন্ধকারে থাকা সড়ক ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বৈদ্যুতিক বাল্ব স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস। তাঁর উদ্যোগে সুরেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের এলাকা এবং পূর্ব কাঁঠালবাড়িয়ায় বৈদ্যুতিক বাল্ব স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে এসব এলাকায় আলো স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকায় শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক মানুষসহ পথচারীদের চলাচলে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতো। এখন বৈদ্যুতিক বাল্ব স্থাপনের ফলে রাতের অন্ধকার দূর হওয়ার পাশাপাশি এলাকাগুলোর মানুষের চলাচল আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সুরেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের এলাকা এবং পূর্ব কাঁঠালবাড়িয়ার কিছু অংশ রাতে অন্ধকারে থাকত। সন্ধ্যার পর ওই পথ দিয়ে চলাচলের সময় অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের জন্যও বিষয়টি ছিল দুর্ভোগের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সেখানে আলো স্থাপন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস বলেন, “সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছোট ছোট সমস্যাগুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। একটি এলাকায় আলো না থাকলে রাতের বেলায় সাধারণ মানুষের চলাচলে যেমন অসুবিধা হয়, তেমনি নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত থাকে। স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন বিবেচনা করেই সুরেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের এলাকা ও পূর্ব কাঁঠালবাড়িয়ায় বৈদ্যুতিক বাল্ব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “জনসেবার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করা। একটি ছোট উদ্যোগও যদি সাধারণ মানুষের কষ্ট কমায় এবং তাদের চলাচল নিরাপদ করে, সেটিই আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতেও মানুষের প্রয়োজন ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।” স্থানীয়রা বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাসের এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ভূমি সংক্রান্ত প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা ও জনদুর্ভোগের বিষয়েও নজর দিচ্ছেন এতে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, অনেক সময় বড় কোনো প্রকল্পের প্রয়োজন হয় না; মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট একটি উদ্যোগও তাদের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সুরেশ্বরী ও পূর্ব কাঁঠালবাড়িয়ায় বৈদ্যুতিক বাল্ব স্থাপনের ফলে রাতের অন্ধকার দূর হওয়ায় শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জননিরাপত্তা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলের আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকলে সাধারণ মানুষের চলাচল যেমন সহজ হবে, তেমনি বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব। সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাসের উদ্যোগে স্থাপিত নতুন বৈদ্যুতিক বাল্বগুলো জ্বলে ওঠার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকাগুলোতে নতুন আলোর সংযোজন হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় পুঠিয়ার অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্থানেও পর্যায়ক্রমে আলোর ব্যবস্থা করা হবে। আলো ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি পথে—নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হোক পুঠিয়ার জনপদ। Post navigation বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীনের শুভেচ্ছা তানোরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত; র্যালি ও আলোচনা সভায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি