পাবনায় ব্লাস্টের নেটওয়ার্কিং সভা,, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের আইনি অধিকার নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ 👨💼মমিনুল ইসলাম মুন, নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজশাহী : জেলা পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাবনায় বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর উদ্যোগে নেটওয়ার্কিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পাবনায় আয়োজিত এ সভায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীসহ সমাজের বিভিন্ন প্রান্তিক মানুষের ওপর নির্যাতন, হয়রানি ও বৈষম্য প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পাবনার জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মনিরুজ্জামান। সভায় পাবনা বার অ্যাসোসিয়েশন ও পাবনা ব্লাস্ট ইউনিটের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাকসুদুর রহমান মাসুদ, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক, সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতিনিধি মো. হাফিজুর রহমান, আইনজীবী অ্যাডভোকেট মায়া আক্তার, বিভিন্ন এনজিও ও কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশনের (সিবিও) প্রতিনিধি, তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা বলেন, সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী নানা ধরনের নির্যাতন, বৈষম্য ও আইনি জটিলতার শিকার হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা কোথায় এবং কীভাবে আইনি সহায়তা পাবেন, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য জানেন না। এ কারণে সরকারি ও বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। আলোচনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন প্রতিরোধের পাশাপাশি তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের প্রতি যৌন হয়রানি, নির্যাতন ও বৈষম্যের ঘটনায় কীভাবে তাঁরা আইনি প্রতিকার ও ন্যায়বিচার পেতে পারেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় অ্যাডভোকেট মায়া আক্তার বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে শুধু আইন থাকলেই হবে না; তাঁদের কাছে সেই আইনি সেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ কোনো ধরনের নির্যাতন বা যৌন হয়রানির শিকার হলে তাঁদের ভয় বা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে চুপ না থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী, আইন সহায়তাকারী সংগঠন, এনজিও ও কমিউনিটি সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, একটি নির্যাতনের ঘটনা ঘটার পর আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে মানবিক মর্যাদা, সমঅধিকার ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করা গেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন ও বৈষম্য অনেকাংশে কমানো সম্ভব বক্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠী যাতে আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী, পুলিশ, সমাজসেবা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ব্লাস্টসহ সংশ্লিষ্ট এনজিও এবং স্থানীয় পর্যায়ের সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগের কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। সভায় অংশগ্রহণকারীরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দ্রুত রেফারেল, আইনি সহায়তার তথ্য সহজলভ্য করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। Post navigation নবীনগর পশ্চিমাঞ্চল প্রেসক্লাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু বেনাপোলে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত