তানোরে সিরাজকে রাতে আটকের অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন?,,, রাস্তার জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে হুমকি-ধমকির অভিযোগ; ওসি ও এএসআইয়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি 👨💼মমিনুল ইসলাম মুন,স্টাফ রিপোর্টার,রাজশাহী: রাজশাহীর তানোরে বাড়ির সামনের রাস্তার জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে সিরাজ নামের এক ব্যক্তিকে রাতের আঁধারে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে রাস্তার জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির ২নং বাধাইড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আল আমিন পলাশ (মাস্টার) এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মুন্ডুমালা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই নাসিরের বিরুদ্ধে সিরাজ ও তাঁর স্ত্রীকে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ রাতে সিরাজকে আটকের ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতি আল আমিন পলাশ (মাস্টার) সিরাজের বাড়ির সামনের রাস্তার জায়গা দখল করছিলেন বলে অভিযোগ করেন সিরাজের পরিবার। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে পলাশের বন্ধু হিসেবে পরিচিত মুন্ডুমালা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই নাসির, সিরাজ ও তাঁর স্ত্রীকে একাধিকবার ওই জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সিরাজের পরিবারের দাবি, এএসআই নাসির বিভিন্ন সময়ে তাঁদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেন। এমনকি সিরাজের স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ও ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় কথা বলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সিরাজের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, এএসআই নাসির সিরাজের স্ত্রীকে বলেন, ‘তোর শুরশুরি উঠেছে, তোর শুরশুরি মেরে দেওয়া হবে। এখনো জায়গা ছেড়ে দে।’ এ ধরনের কথাবার্তা ও আচরণে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। এরই মধ্যে গত রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে তানোর থানার জুমারপাড়া নিজ বাড়ি থেকে আলোর পুত্র সিরাজকে( ৪০)আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। আটকের পর তাঁর স্ত্রী পুলিশের কাছে জানতে চান, কী কারণে তাঁর স্বামীকে আটক করা হয়েছে? তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না, কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কি না? অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর না দিয়ে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে বলেন, ‘কাল থানায় খাবার নিয়ে আসিস, অত কিছু জানতে হবে না।’ পুলিশের এমন কথাবার্তায় আটক ব্যক্তির পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এবং সিরাজকে আটকের কারণ ও পুলিশের বক্তব্য জানতে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানের সরকারি দায়িত্বসংশ্লিষ্ট নম্বরে একাধিকবার এই প্রতিবেদক ফোন করেন কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, এএসআই নাসিরের বিরুদ্ধে ওঠা হুমকি-ধমকি ও অশালীন আচরণের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। বাড়ির সামনের রাস্তার জায়গা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত কীভাবে? জায়গাটি সরকারি রাস্তা, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি, নাকি অন্য কোনো ধরনের জমি—তা যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়েছে কি না, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। জমি বা রাস্তা নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়াই প্রত্যাশিত। কোনো পুলিশ সদস্য ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে কোনো পক্ষের হয়ে অন্য পক্ষকে চাপ প্রয়োগ করতে পারেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। সিরাজকে কী অভিযোগে আটক করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠলে সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। সিরাজের পরিবারের অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আটকের প্রকৃত কারণ জনসমক্ষে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। Post navigation বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় ২৮ লক্ষ টাকা মূল্যের ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের পণ্য আটক পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় ও ওসির সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিযান: ঢাকার রমনা থেকে রুমিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার