চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার এসআই মোতালেবের বিরুদ্ধে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে দুইজনকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ নিজস্ব প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল মোতালেবের বিরুদ্ধে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে দুইজনকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের চর বালিয়াঘাটা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর পর এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৭ সেপ্টেম্বর চর বালিয়াঘাটা এলাকায় এসআই মো. আব্দুল মোতালেবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় আঃ হান্নান, সাগর আলী ও খালেদা বেগম নামে তিনজনকে আটক করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে দেনদরবারের মাধ্যমে সাগর আলী ও খালেদা বেগমকে ছেড়ে দেওয়া হলেও আঃ হান্নানের বিরুদ্ধে ১ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। ছাড়া পাওয়া খালেদা বেগম অভিযোগ করেন, এসআই মোতালেব তার বাড়িতে প্রবেশ করে গাঁজা উদ্ধারের কথা জানান এবং তাদের হাতে হাতকড়া পরান। পরে দুইজনকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। তার দাবি, পুরো টাকা দিতে না পারায় কানের দুল ও আংটি দরগা এলাকার বিকাশ ব্যবসায়ী আওয়ালের কাছে বন্ধক রেখে ৫০ হাজার টাকা বিকাশে এবং বাড়িতে থাকা আরও ১০ হাজার টাকা নগদ দেওয়া হয়। এরপর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। খালেদা বেগম আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও এসআই মোতালেব তাদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা নিয়েছেন এবং সুযোগ পেলেই টাকা নিয়ে যান। তবে তিনি নিজেও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার কথাও তিনি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে দরগা এলাকার বিকাশ ব্যবসায়ী আওয়াল বলেন, খালেদা বেগমের স্বর্ণালংকার তিনি মোটরসাইকেলে গিয়ে নিয়ে আসেন এবং এর বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা দেন। ওই স্বর্ণালংকার এখনো তার কাছে বন্ধক রয়েছে বলে জানান তিনি। অভিযোগের পক্ষে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ দুপুর ৩টা ৬ মিনিটে ৫০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠানোর একটি লেনদেনের স্ক্রিনশট দেখানো হয়েছে। তবে ওই লেনদেনের সঙ্গে এসআই মোতালেবের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মো. আব্দুল মোতালেব টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমার নম্বরে কি টাকা দিয়েছে? আমি কোনো টাকা নিইনি। এজাহারে একজন আসামিই ধরা পড়েছে, আমি তিনজনকে ধরিনি।’ এদিকে যে বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর কথা বলা হয়েছে, সেই নম্বরের ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে সাংবাদিকদের অন্য একজনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ওসি বর্তমানে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। এসআই মোতালেবের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ লিখিত বা আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। Post navigation দক্ষ জনশক্তিই উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মূল চাবিকাঠি: রাজশাহীর ডিসি কাজী শহিদুল ইসলাম নবীনগর কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে মাদকাসক্ত যুবককে গাঁজা খেতে না দেওয়ায় পূজায় বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ