কাজিপুরে বেপরোয়া মৎস্য নিধন, হুমকির মুখে যমুনার মৎস্যসম্পদ, ; চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালে নিধন হচ্ছে মা মাছ ও রেণু পোনা অঞ্জনা চৌধুরী, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা নদীসহ বিভিন্ন জলাশয়ে নিষিদ্ধ ও অবৈধ উপায়ে বেপরোয়া মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল ব্যবহারের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ করে মাছ ধরায় হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় মৎস্যসম্পদ। এভাবে অব্যাহতভাবে মাছ নিধন চলতে থাকলে আগামী দিনে যমুনা নদী মৎস্যশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় প্রকৃত মৎস্যজীবীরা। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, একশ্রেণির অপেশাদার মৎস্য শিকারি সরকারি আইন ও বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাছ শিকার করে আসছেন। বিশেষ করে চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের মতো নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ ধরায় বড় মাছের পাশাপাশি নির্বিচারে ধরা পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছ ও রেণু পোনা। অভিযোগ রয়েছে, কোথাও কোথাও নদীর স্বাভাবিক স্রোতধারা বাধাগ্রস্ত করে পানি আটকে বা পানি কমিয়ে মাছ ধরারও প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে মাছের প্রজনন ও স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদীর জীববৈচিত্র্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকৃত মৎস্যজীবীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে যমুনা নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার ঘটে। এ সময় নির্বিচারে মা মাছ ও রেণু পোনা নিধন করা হলে ভবিষ্যতে নদীতে মাছের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে প্রকৃত মৎস্যজীবী ও নদীনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর। স্থানীয়দের ভাষ্য, নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান না থাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তি অবৈধ মাছ শিকারে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তাদের দাবি, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার এবং নদীর পানিপ্রবাহ বন্ধ করে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এদিকে স্থানীয় সূত্রের দাবি, কাজিপুরে নিয়মিত মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে তদারকির ঘাটতি রয়েছে। ফলে সুযোগ নিয়ে একটি চক্র অবাধে মাছ নিধন করছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা যেতে পারে। প্রকৃত মৎস্যজীবীরা যমুনা নদীর মৎস্যসম্পদ রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক অভিযান, নিষিদ্ধ জাল জব্দ এবং অবৈধ মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করে মা মাছ ও রেণু পোনা রক্ষায় কার্যকর নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে নির্বিচারে মাছ নিধনের কারণে কাজিপুরের যমুনা নদীর দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে। Post navigation নিয়ামতপুরে ৬ মাস পর কবর থেকে তোলা হলো সাজ্জাদের লাশ কালাইয়ে রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়