দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা, বিমানবন্দর থেকে আটক ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতাসহ ৩ নেতা

দেশবার্তা বিডি২৪. কম, আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁদের আটক করা হয়। আটক অন্য দুজন হলেন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা।

বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়া, নেতাদের আটক এবং রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ঘিরে পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিলেন আন্দোলনকারীরা। তবে দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্ধারিত নিয়ম মেনে আবেদন না করা, আগের কর্মসূচিতে পুলিশের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ এবং জননিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে বিক্ষোভের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়।

অনুমতি না পেলেও যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় তরুণদের উপস্থিতি দেখা যায়। তবে সেখানে জমায়েতের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়। বিক্ষোভ ঠেকাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পার্লামেন্ট স্ট্রিটে উপস্থিত এক তরুণ বিবিসি হিন্দিকে বলেন, ‘রাজা ভয় পাচ্ছে তাই সান্ত্রীকে এগিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু এ দেশের তরুণরা আর পিছু হঠবে না।’ তাঁর দাবি, এই আন্দোলন ইতোমধ্যে জাতীয় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁরা এ দাবি জানাচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন পক্ষের অবস্থান ভিন্ন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মধ্য দিল্লির কয়েকটি এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। একাধিক মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া দিল্লিতে আসা কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেনের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে।

নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে শুক্রবার ভারতের সুপ্রিম কোর্টও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিক্ষোভের আশঙ্কায় গণপরিবহণ পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে সাধারণ মানুষকে অযথা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিধিনিষেধের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করে নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিষেবা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করার কথাও বলা হয়েছে।

এদিকে, বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়া এবং তিন নেতাকে বিমানবন্দর থেকে আটকের ঘটনায় আন্দোলনকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আটক নেতাদের বিরুদ্ধে ঠিক কোন আইনি ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার এবং সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও এখন আলোচনায় রয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।

By moon24

মমিনুল ইসলাম মুন। সম্পাদক ও প্রকাশক। দেশবার্তা বিডি ২৪. কম। 📲 01740 93 58 70 বার্তাকক্ষ-01722 320196 Email : mominulinqilab@gmail.com deshbartabd86@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *