তানোরে ইউএনও নাঈমা খানের মাঠপর্যায়ের তদারকিতে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে গতি ; নাগরিক সেবা, উন্নয়ন প্রকল্প ও আইনশৃঙ্খলায় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব 👨💼 মমিনুল ইসলাম মুন, নিজস্ব প্রতিনিধি রাজশাহী : রাজশাহীর তানোরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খানের মাঠপর্যায়ের তদারকি ও বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে গতি এসেছে। নাগরিক সেবা সহজীকরণ, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বাল্যবিয়ে ও মাদক প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইউএনও নাঈমা খান কার্যালয়কেন্দ্রিক কাজের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি, সেবামূলক কার্যক্রম এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন তিনি। নাগরিক সেবা সহজীকরণের ক্ষেত্রেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আসা নাগরিকদের কথা সরাসরি শোনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষ যাতে অযথা হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা পরিষদ চত্বরের পরিবেশ ও সেবার ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও মাঠপর্যায়ের নজরদারি বাড়িয়েছেন ইউএনও নাঈমা খান। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক, অবকাঠামো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের মান সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্ধারিত নীতিমালা ও মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। তানোর পৌরসভার প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন ইউএনও নাঈমা খান। এ দায়িত্বের অংশ হিসেবে পৌর এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নাগরিক সেবার বিষয়েও মাঠপর্যায়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। উন্নয়নকাজে কোনো সমস্যা বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা ও অন্যান্য ভাতাভোগীদের সরকারি সুবিধা নিশ্চিত করতেও প্রশাসনিক তদারকি রয়েছে। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়ন এবং সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। এদিকে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধেও উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বাল্যবিয়ের খবর পাওয়া গেলে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন। মাদক, বাল্যবিয়ে, সরকারি সম্পত্তি দখলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও প্রশাসনিক সমস্যা চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি খাল, জলাশয় ও জমি অবৈধ দখলমুক্ত রাখা এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায়ও প্রশাসনিক নজরদারি রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দিতে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি ও আন্তঃদপ্তর সমন্বয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সুবিধা হচ্ছে। তবে ইউএনও নাঈমা খানের কার্যক্রম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের আলোচনা থাকলেও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে মাঠপর্যায়ের তদারকি ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান বলেন, “সরকারি দায়িত্ব পালনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণকে নিয়ম অনুযায়ী সেবা দেওয়া। উপজেলা প্রশাসনের সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে শুনে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক সমস্যাগুলো মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। মাঠপর্যায়ে সরকারি কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাঠপর্যায়ে সরেজমিন তদারকি, বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় এবং নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব। তানোরে সরকারি সেবার সুফল প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ইউএনও নাঈমা খানের এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন তারা। Post navigation বাঁধাইড়ের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী হতে চান আকাশ চন্দ্র মাহাতো ; সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত আকাশের নির্বাচনী মাঠে নামার প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরলেন দুই নারী