এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরাও নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন ;

আইন সংশোধন না হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা নেই

 

 বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা :

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। বিদ্যমান আইনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাকরিকে ‘লাভজনক পদ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা না থাকায় তাদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত বাধা নেই।

তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস না হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার আইনগত সুযোগ নেই বলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হলেও জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সরকার এ-সংক্রান্ত কোনো সংশোধনী বিল উত্থাপন করেনি। ফলে প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সংশোধনীটি সংসদে পাস হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, সংশোধনী কার্যকর না হলে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনে অযোগ্য ঘোষণা করার সুযোগ নেই। কারণ স্থানীয় সরকার-সংক্রান্ত আইনগুলোতে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পদকে ‘লাভজনক পদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

এ বিষয়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার অনুচ্ছেদ ১১.১৭(ক) ও (খ)-এর বিষয়টিও সামনে এসেছে। ওই বিধানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের একই সঙ্গে একাধিক পদে বা চাকরিতে কিংবা আর্থিকভাবে লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকার বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে কোন কোন পদকে লাভজনক পদ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তার মধ্যে স্থানীয় সরকারের পদগুলো অন্তর্ভুক্ত নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া রিট পিটিশন নং ৬৩৬৬/২০০৯-এর মামলায় হাইকোর্ট পৌরসভার মেয়র পদকে লাভজনক পদ হিসেবে ব্যাখ্যা করেনি। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারের অন্যান্য পদকে লাভজনক পদ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যার এখতিয়ার নিয়েও আদালতের পর্যবেক্ষণ রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সব নির্বাচনের জন্য একই আইন থাকা প্রয়োজন। এক নির্বাচনে এক ধরনের আইন এবং অন্য নির্বাচনে ভিন্ন ধরনের আইন হলে বৈষম্য তৈরি হবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের নির্বাচন উপযোগী ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা প্রস্তুত করেছে ইসি সচিবালয়। নির্বাচন কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য যাচাই করে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

ইসি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৪ হাজার ২০০টির বেশি নির্বাচন উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরেই ভোট আয়োজনের উপযোগী ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৩ হাজার ৯০০টির বেশি। প্রায় ৫০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদও শেষ হয়েছে।

এবার একটি উপজেলার নির্বাচন উপযোগী সব ইউনিয়ন পরিষদে একই দিনে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করছে কমিশন। প্রথম ধাপে ৫০০ থেকে ৭০০ এবং দ্বিতীয় ধাপে ৯০০ থেকে ১ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। পরবর্তী ধাপগুলোতে তুলনামূলক কমসংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদ রাখা হতে পারে।

তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে স্থানীয় সরকার আইন সংশোধন না হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রার্থী হওয়ার বর্তমান আইনগত সুযোগ বহাল থাকবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা।

By চাঁদ২৪

মমিনুল ইসলাম মুন। সম্পাদক ও প্রকাশক। দেশবার্তা বিডি ২৪. কম। 📲 01740 93 58 70 বার্তাকক্ষ-01722 320196 Email : mominulinqilab@gmail.com deshbartabd86@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You missed