মোহনপুরে মাদরাসা সুপারের অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল, তদন্তের দাবি বিশেষ প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের এমপিওভুক্ত বসন্তকেদার দারুস সুন্নাত দাখিল মাদরাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট মাওলানা গোলাম মোস্তফার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে তাকে এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে মাওলানা গোলাম মোস্তফার সঙ্গে একজন নারী রয়েছেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি ওই কক্ষে প্রবেশ করে তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি নিজেকে গোলাম মোস্তফা ও শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিতে এবং বিষয়টি নিয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অনুরোধ করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি কখন, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে, সেটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির পরিচয়ও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠানটির সুপারিন্টেন্ডেন্ট মাওলানা গোলাম মোস্তফা বলে জানিয়েছেন। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গোলাম মোস্তফা প্রায় ২৮ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে সরকারি বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। চাকরির মেয়াদ শেষ হতে তার আরও প্রায় পাঁচ বছর সময় রয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে। ভাইরাল ভিডিওর বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদরাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট মাওলানা গোলাম মোস্তফার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বসন্তকেদার দারুস সুন্নাত দাখিল মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইসারুল হক বলেন, “ভিডিওটি আমার নজরে আসেনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” মোহনপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহমুদ হাসান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো কিছু জানি না। অভিযোগটি সত্য হলে বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্তসহ বেতন-ভাতা বন্ধের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ভিডিওটির সত্যতা এবং এর পেছনের প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে ধারণ বা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় পর্যায়ে মাওলানা গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগের কথা আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানের অর্থসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ এবং একজন শিক্ষার্থীকে বিয়ের পর অল্প সময়ের মধ্যে বিচ্ছেদের বিষয়টিও রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এসব অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট মামলার বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সিদ্ধান্তে না গিয়ে বিষয়টি যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও শিক্ষা বিভাগের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। Post navigation তানোরে সরকারি দুই কর্মকর্তার হাতে সিএনজি চালক প্রহৃত ! রাজশাহীতে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত