তানোরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত; র্যালি ও আলোচনা সভায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি মমিনুল ইসলাম মুন নিজস্ব প্রতিনিধি রাজশাহী : রাজশাহীর তানোরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার গোল্লাপাড়া বাজারস্থ বরেন্দ্র ভবন সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি তানোরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিতে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ও তানোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিজান। বক্তব্যে মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ১৯৭৮ সালে দেশের একটি সংকটময় সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর নানা প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়েও বিএনপি তার সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানকে বিপথগামী সেনাসদস্যরা হত্যা করলেও বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গণমানুষের আস্থার প্রতীক ছিলেন। তার রাজনৈতিক দর্শন ও নেতৃত্বে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। তার মৃত্যুর পর দলের হাল ধরেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের আস্থাভাজন নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। মিজানুর রহমান মিজান আরও বলেন, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে নানা প্রলোভন ও চাপ থাকা সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়া ওই একতরফা নির্বাচনে অংশ নেননি। পরবর্তীতে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে বেগম খালেদা জিয়া দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে নানা ধরনের নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করা যায়নি। গণতন্ত্রের জন্য বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছেন। আজ তারা জিয়ার আদর্শের সৈনিক হিসেবে ঐক্যবদ্ধ। জিয়ার সৈনিকরা পরাজিত নয়, তারা বিজয়ী। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সরনজাই ইউপির চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রভাষক নুরুল ইসলাম, মুন্ডুমালা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোজাম্মেল হক, সদস্য সচিব ও সাবেক কাউন্সিলর আতাউর রহমান, উপজেলা বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম, তানোর পৌরসভার সাবেক সম্পাদক আলহাজ্ব আরশাদ আলী, ওমর আলী, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি মিনারা খাতুন পলি, পৌর সদস্য সচিব আব্দুস সবুর, সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন তোফা, ইয়াসিন আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাব হোসেন, উপজেলা যুবদলের নেতা শরিয়তুল্লাহ, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন মিঠু, কলমা ইউপি সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, পাঁচন্দর ইউপি সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, তালন্দ ইউপি সভাপতি শামসুদ্দিন, চান্দুড়িয়া ইউপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোতালেব হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান, সদস্য সচিব জহুরুল ইসলাম, যুবদল নেতা নজরুল ইসলাম, ওয়ার্ড সভাপতি শমসের আলী, কোরবান, বাসারত প্রমুখ। এ সময় তানোর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী র্যালি ও আলোচনা সভায় অংশ নেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। র্যালিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দলের রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়ে বক্তারা বক্তব্য দেন। Post navigation ভাঙ্গুড়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা তানোরে সরকারি দুই কর্মকর্তার হাতে সিএনজি চালক প্রহৃত !