৫ আগস্ট গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
[caption id="attachment_2702" align="aligncenter" width="300"]
ফাইল ছবি।[/caption]
দেশবার্তা বিডি ২৪. কম, নিউজ ডেস্ক :
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক দিন। তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন, ত্যাগ ও আত্মদানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ রচনা করেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৫ আগস্ট আনন্দ, বিজয় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতীক। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকার দেশত্যাগে বাধ্য হয় এবং এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতের মানুষ গুম, খুন, নির্যাতন, হামলা এবং মামলার শিকার হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠ রোধে দেশে অসংখ্য গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে বহু মানুষকে বছরের পর বছর আটক রাখা হয়েছে এবং অনেকেই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী ও সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের ভাগ্য আজও অজানা।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয় এবং দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী ও নারীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন।
প্রধানমন্ত্রী রংপুরের আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরাম এবং ঢাকার মুগ্ধসহ আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ গণতন্ত্রের সংগ্রামে নতুন প্রেরণা জুগিয়েছে। তিনি দাবি করেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে হাজারো মানুষ নিহত এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। আহতদের মধ্যে অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। তিনি এটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসের পাশাপাশি বিশ্ব ইতিহাসেও একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের প্রতি রাষ্ট্র ও জাতির দায়বদ্ধতা রয়েছে এবং তাদের মর্যাদা রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্য অটুট রেখে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা বা উগ্রবাদের উত্থান ঘটতে না পারে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
[caption id="attachment_2703" align="aligncenter" width="198"]
প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আপনিও হতে পারেন একজন ভালো সাংবাদিক। শীঘ্রই যোগাযোগ করুন।[/caption]
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০