
২০-২৫ বছরের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা চিকিৎসা শিক্ষা কেন্দ্র হবে ঢামেক: ডা. জুবাইদা রহমান
বিশেষ প্রতিবেদক,ঢাকা :
আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজকে (ঢামেক) দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রে পরিণত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, অতীতের গৌরব ধরে রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, উদ্ভাবন, আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষা এবং মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে ঢামেককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে।
শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা যতই প্রযুক্তিনির্ভর হোক না কেন, এর মূল কেন্দ্রবিন্দু মানুষ। চিকিৎসা পেশার প্রকৃত ভিত্তি মানবিকতা। একজন চিকিৎসকের আন্তরিক আচরণ ও আশ্বস্ত করার একটি বাক্যও অনেক
সময় রোগীর জন্য ওষুধের মতো কাজ করে।
তিনি বলেন, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর আর কখনও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা হয়নি। গাইনোকোলজি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগে দায়িত্ব পালনের সময় দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাই তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে এমন একটি ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স অ্যান্ড কমপ্যাশন’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে প্রতিটি রোগী সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা ও মানবিক আচরণ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ঢামেকের সাবেক শিক্ষার্থীদের এখন শুধু স্মৃতির বন্ধনে নয়, দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেও নিজেদের প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। একটি প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় শক্তি তার ভবন নয়, বরং তার মেধাবী ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ। চিকিৎসকদের মধ্যে পেশাগত প্রতিযোগিতার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেল পরিদর্শন করেন। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের পর তারা হোস্টেলে গেলে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে তাদের স্বাগত জানান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হও, দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করো।”
নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, এই ক্যাম্পাসে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে। বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবনে নানা প্রতিকূলতা এলেও সামনে এগিয়ে যেতে হবে। রাগ-ক্ষোভ পুষে না রেখে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং স্মারক ছবি তোলেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০