হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের অভিযোগ, দুই এসিল্যান্ড বদলি
[caption id="attachment_4004" align="aligncenter" width="300"]
সিদ্ধিরগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবযানী কর এবং ফতুল্লার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমা[/caption]
দেশবার্তা বিডি ২৪. কম ডেস্ক :
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের দুই সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বদলি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সিদ্ধিরগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবযানী করকে নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে খুলনায় এবং ফতুল্লার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমাকে পরিদর্শনের ঘটনায় চট্টগ্রামে বদলি করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিস আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এ সময় বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে হাজিরা খাতায় আগের দিনই তাঁদের স্বাক্ষর পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের মোট ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়ার কাছে লিখিতভাবে নিজেদের বক্তব্য দিয়েছেন। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তারকেও অনুপস্থিতির বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি বর্তমানে একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, ৩১ আগস্ট সকালে প্রতিমন্ত্রী ভূমি অফিস পরিদর্শনে গিয়ে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে পাননি। অথচ ওই দিনের হাজিরা খাতায় আগের দিনই তাঁদের স্বাক্ষর ছিল। বিষয়টিকে গর্হিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮-এর ‘খ’ ধারায় বর্ণিত অপরাধ এবং সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর লঙ্ঘন। সংশ্লিষ্টদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল।
নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), ইউনূস আলী, মোক্তার হোসেন ও গাড়িচালক নাদিম হায়দার রয়েছেন।
এ ছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ ও চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম এবং ফতুল্লার সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাতকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকার সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ের বেশি একই কর্মস্থলে থাকা কর্মকর্তাদের তালিকা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে তাঁদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#
সম্পাদক ও প্রকাশক মমিনুল ইসলাম মুন।
মোবাইল ০১৭৪০৯৩৫৮৭০